বাংলাদেশ আগামী পাঁচ মাসের জন্য নেপাল থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পেতে যাচ্ছে। এই সরবরাহ সোমবার থেকে নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। এটি একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তির অধীনে সম্ভব হয়েছে, যা বাংলাদেশ, নেপাল এবং ভারতের মধ্যে ৩ অক্টোবর ২০২৪ সালে স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
বাংলাদেশের বর্তমান চাহিদার তুলনায় এই পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রতীকী হলেও, উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে এই সরবরাহ বাড়ানোর সম্ভাবনা দেখছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। নেপালের জলবিদ্যুৎ সম্ভাবনা এবং বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য যথেষ্ট সুযোগ তৈরি করেছে।
বিদ্যুৎ রপ্তানি ও আয়
চলতি অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে নেপাল ভারত ও বাংলাদেশে প্রায় ২১ বিলিয়ন রুপি (প্রায় ২৫.৬ বিলিয়ন টাকা) মূল্যের বিদ্যুৎ রপ্তানি করেছে। গত বছর এই পরিমাণ ছিল ১৩ বিলিয়ন রুপির বেশি।
দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা
বাংলাদেশ ও নেপাল ১০ আগস্ট ২০১৮ সালে বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতার জন্য একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। এই সমঝোতা স্মারকের অধীনে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সচিব পর্যায়ে একটি যৌথ স্টিয়ারিং কমিটি এবং যুগ্ম সচিব পর্যায়ে একটি যৌথ কার্যকরী গ্রুপ গঠন করা হয়।
নেপাল-বাংলাদেশ বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতার ৭ম যৌথ স্টিয়ারিং কমিটি ও যৌথ কার্যকরী গ্রুপের সভা ২০২৫ সালের ২৬-২৭ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়।
ত্রিপক্ষীয় বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি
নেপাল থেকে বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির জন্য একটি ত্রিপক্ষীয় বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি ৩ অক্টোবর ২০২৪ সালে স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিটি নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং ভারতের এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যবসা নিগম লিমিটেডের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়।
এই চুক্তির আওতায় ১৫ নভেম্বর ২০২৪ থেকে নেপাল থেকে বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি শুরু হয়। চুক্তি অনুযায়ী, নেপাল প্রতিবছর সোমবার থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করে আসছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
যৌথ উদ্যোগে ৬৮৩ মেগাওয়াটের সুনকোশি তৃতীয় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়েও আলোচনা চলছে। বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং বলেছে যে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়ানো উভয়ের জন্যই লাভজনক হবে।



