৮০ বছর বয়সী মো. আব্দুল্লাহর হুইলচেয়ারে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি, চট্টগ্রাম-১৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা
হুইলচেয়ারে ভোটকেন্দ্রে ৮০ বছর বয়সী আব্দুল্লাহ

হুইলচেয়ারে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি: ৮০ বছর বয়সী মো. আব্দুল্লাহর অনুপ্রেরণাদায়ক গল্প

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ সুফিয়া আলীয়া মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে আজ বৃহস্পতিবার সকালে একটি অসাধারণ দৃশ্য দেখা গেছে। ৮০ বছর বয়সী মো. আব্দুল্লাহ, যিনি বহুদিন ধরে হাঁটতে পারেন না, পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় হুইলচেয়ারে করে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে তাঁর ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এই ঘটনা ভোটের দিনে গণতন্ত্রের প্রতি নাগরিকদের অঙ্গীকারের একটি জীবন্ত উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

অসুস্থতা সত্ত্বেও ভোটাধিকার প্রয়োগ

মো. আব্দুল্লাহ লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম–১৫ আসনের একজন ভোটার। তিনি উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের কিল্লার আন্দর এলাকার বাসিন্দা। সকাল পৌনে আটটার দিকে তিনি ভোটকেন্দ্রে পৌঁছান এবং ভোট দেওয়া শেষে হাসিমুখে কেন্দ্র থেকে বের হন। ভোট দেওয়ার পর তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচিত করার জন্য ভোট দিতে এসেছি। অনেক দিন পর এমন উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিলাম। অসুস্থ থাকায় হুইলচেয়ারে আসতে হয়েছে। আশা করি, নির্বাচিত সংসদ সদস্য আমাদের দাবিগুলো পূরণ করবেন।’

চট্টগ্রাম–১৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা

এই আসনে সংসদ সদস্য পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন:

  • বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন
  • জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী
  • ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী শরীফুল আলম চৌধুরী

তিন প্রার্থী মাঠে থাকলেও ভোটাররা মনে করছেন, মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর মধ্যে। ঐতিহাসিকভাবে এই আসনটি বিএনপি ও জামায়াতের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। উদাহরণস্বরূপ, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী ১৯৯১ ও ২০০১ সালে দুই দফায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন, এবং ২০০৮ সালে বিএনপি–জামায়াত জোটের প্রার্থী হিসেবে শামসুল ইসলাম জয়ী হন।

ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম–১৫ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৬ হাজার ৫৯। ২০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে বিস্তৃত এই আসনে ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৫৭টি। সব ভোটকেন্দ্রই সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় এনেছে উপজেলা প্রশাসন, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

আমিরাবাদ সুফিয়া আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নবী হোছাইন বলেন, ‘এই কেন্দ্র এ আসনের বড় কেন্দ্রগুলোর একটি। সকাল সাড়ে সাতটায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। মোট ৫ হাজার ৬৪৪ ভোটার ১০টি বুথে এ কেন্দ্রে ভোট দেবেন।’ তাঁর মন্তব্য ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার প্রতিফলন করে।

গণতন্ত্রের প্রতি নাগরিকদের প্রতিশ্রুতি

মো. আব্দুল্লাহর মতো ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার শক্তি প্রদর্শন করে। তাঁর উদাহরণ অন্যান্য নাগরিকদেরও ভোটাধিকার প্রয়োগে উদ্বুদ্ধ করতে পারে, বিশেষ করে যারা শারীরিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এই ঘটনা নির্বাচনী দিনের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে ইতিহাসে স্থান পাবে, যেখানে ব্যক্তিগত অসুবিধা সত্ত্বেও গণতন্ত্রের মূল্যবোধকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।