ফেনীতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ ও উৎসবমুখর পরিবেশ
ফেনীতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ

ফেনীতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ ও উৎসবমুখর পরিবেশ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী জেলায় শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো ছিল। নারী, পুরুষ ও তরুণ ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণে কেন্দ্রে কেন্দ্রে তৈরি হয়েছে উৎসবের আমেজ, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রার্থীদের ভোটদান ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া

ফেনী–২ আসনে বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ভিপি জয়নাল আবেদীন ফলেশ্বর টিচার্স ট্রেনিং কলেজ কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেন। একই আসনের শর্শদি উত্তর খানেবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল ৮টায় ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন আসনটিতে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। ফেনী–৩ আসনের আলাইয়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টু। একই আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. ফখরুদ্দিন মানিকও আলামপুর কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেন।

নির্বাচনী কেন্দ্র ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ফেনীর মোট ৪২৮টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে, যার মধ্যে ৫৩টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ফেনী–১ আসনে ১৮টি, ফেনী–২ আসনে ১৬টি ও ফেনী–৩ আসনে ১৯টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফেনী–১ আসনে ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। ফেনী–২ ও ফেনী–৩ আসনে ৯ প্লাটুন সেনাবাহিনীর পাশাপাশি ৬ প্লাটুন বিজিবি দায়িত্ব পালন করছে। তিনটি আসনে ১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বে রয়েছেন। এ ছাড়া মাঠে রয়েছে পুলিশের ৪৫টি মোবাইল টিম, ৬টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, ৫ হাজার ৫৬৪ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য এবং র‍্যাবের টহল দল।

শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসন ও বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করছেন, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে মসৃণ করতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। এখন পর্যন্ত কোথাও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি, যা ফেনীতে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ভোটারদের উৎসাহ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সক্রিয়তা এই গণতান্ত্রিক উৎসবকে সফল করে তুলতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।