নির্বাচন কমিশনের আশ্বাস: ভোট গণনা নির্ধারিত সময়েই শেষ হবে, বিলম্বের কোনো কারণ নেই
নির্বাচন কমিশন: ভোট গণনা নির্ধারিত সময়েই শেষ হবে

নির্বাচন কমিশনের দৃঢ় ঘোষণা: ভোট গণনা নির্ধারিত সময়েই সম্পন্ন হবে

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল বিলম্বিত হওয়ার কোনো কারণ বা সম্ভাবনা নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, প্রতিটি ব্যালট সঠিকভাবে গণনা করা হবে এবং এই প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই শেষ হবে।

ভোটগ্রহণ ও গণনার সময়সূচি

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, ভোটগ্রহণ ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হবে এবং পরের দিন অর্থাৎ শুক্রবার সকাল ১০টার মধ্যেই ভোট গণনার সমস্ত কাজ সম্পন্ন হবে।

গণভোটের কারণে ভোট গণনায় তিন থেকে পাঁচ দিন সময় লাগতে পারে—এমন প্রচারণার বিষয়ে জানতে চাইলে সচিব দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, 'ভোট গণনা শেষ করতে পাঁচ দিন সময় লাগার কোনো সম্ভাবনা নেই। আমরা ভোট গণনা শুক্রবার সকাল ১০টায় শেষ করব। আমাদের প্রতিটি ব্যালট গুনতে হবে, এই সময়টুকু দিতে হবে।'

কারণ ও যুক্তি

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, 'সব আসনে ভোটার কিন্তু সমান নয়। তাছাড়া ভোট দ্রুত গণনা করে কর্মকর্তারাও বাড়ি যেতে চান, তাই কেউ ব্যালট নিয়ে বসে থাকবে না।' এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ভোট গণনা প্রক্রিয়ার দক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেছেন।

নির্বাচনী পরিবেশ ও নিরাপত্তা

ব্রিফিংয়ে ইসি সচিব আরও বলেন, 'ভোট নিয়ে এখন আর কোনো শঙ্কা নেই। নির্বাচনের বেশি সময় আর বাকি নেই। আগামীকাল সকাল থেকে সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা বন্ধ হবে।' তিনি উল্লেখ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও যেন প্রচার-প্রচারণা বন্ধ থাকে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ডিজিটাল প্রচারণা নিবিড়ভাবে মনিটরিং করা হবে।

সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি ভালো এবং মারাত্মক কোনো খবর আসেনি। তবে নির্বাচনি সহিংসতায় দুটি প্রাণহানির ঘটনাকে তিনি 'দুঃখজনক ও নিন্দনীয়' বলে অভিহিত করেন।

রাজনৈতিক বক্তব্য ও শালীনতা

রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ প্রসঙ্গে আখতার আহমেদ বলেন, 'মিছিল-মিটিংয়ে বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্য নির্বাচনেরই অংশ। এখন পর্যন্ত এসব বক্তব্য শালীনতার মধ্যেই আছে বলে আমরা মনে করি।' এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি নির্বাচনী প্রচারণার স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে স্বীকৃতি দিয়েছেন।

সর্বোপরি, নির্বাচন কমিশনের এই ঘোষণা আসন্ন নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশে সময়ানুবর্তিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।