ঝিনাইদহ-৪ আসনে নির্বাচনী কেন্দ্রে ২৩টি রেজাল্ট শিট জব্দ
ঝিনাইদহ-৪ আসনের (কালীগঞ্জ ও সদরের আংশিক) সলিমুন্নেছা বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে দাঁড়িপাল্লা ও ধানের শীষ প্রতীকের পোলিং এজেন্টের স্বাক্ষরিত ২৩টি রেজাল্ট শিট উদ্ধার ও জব্দ করা হয়েছে। এই ঘটনায় নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে এবং নতুন রেজাল্ট শিট তৈরির নির্দেশনা দিয়েছেন।
ঘটনার বিবরণ ও কেন্দ্রের পরিস্থিতি
বুধবার রাত ৮টার দিকে কালীগঞ্জ পৌরসভার ৫নং কেন্দ্র সলিমুন্নেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী জেসমিন আরা। ঘটনার পর কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সেলিম রেজা এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসার রিজওয়ানা নাহিদ। এই কেন্দ্রে মোট ২ হাজার ২৩৪ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন বলে জানা গেছে।
এজেন্টদের ভূমিকা ও বক্তব্য
কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার জেসমিন আরা বলেন, "দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পোলিং এজেন্ট জিল্লুর রহমান স্বাক্ষর করেছিলেন। জিল্লুর রহমান ধানের শীষ প্রতীকের এবং ওমর ফারুক দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।" তিনি আরও জানান, এই বিষয়ে অতিরিক্ত মন্তব্য করতে তিনি রাজি হননি। অন্যদিকে, ঝিনাইদহ-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচনি পরিচালক ওলিউর রহমান দাবি করেন যে ওমর ফারুক দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন।
নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ
এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সেলিম রেজা জানান, খবর পেয়ে দ্রুত কেন্দ্রে এসে ২৩টি রেজাল্ট শিট জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত শিটগুলো ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে এবং নতুন রেজাল্ট শিট তৈরি করার জন্য প্রিসাইডিং অফিসারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের একজন পোলিং এজেন্ট ২৩টি রেজাল্ট শিটে স্বাক্ষর করেছেন, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়মের ইঙ্গিত দিতে পারে।
এই ঘটনা ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যেখানে নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ কঠোর নজরদারি বজায় রাখছে। স্থানীয় পর্যায়ে এমন ঘটনা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট সকলের দায়িত্ববোধ ও সতর্কতা জোরদার করার আহ্বান জানাচ্ছে।
