খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনে বাংলাদেশ মুসলিম লীগের প্রার্থী মো. মোস্তফা নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা
খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনে প্রার্থী মো. মোস্তফা নির্বাচন বর্জন

খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনে বাংলাদেশ মুসলিম লীগের প্রার্থী মো. মোস্তফা নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের আগমুহূর্তে খাগড়াছড়ি-২৯৮ নম্বর সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ মুসলিম লীগ মনোনীত হারিকেন প্রতীকের প্রার্থী মো. মোস্তফা নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে দেওয়া এক ঘোষণায় তিনি প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব, হস্তক্ষেপ এবং নিরাপত্তা প্রদানে অবহেলার অভিযোগ তুলে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

নিরাপত্তাহীনতা ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ

মো. মোস্তফা বলেন, প্রার্থিতা ঘোষণার পর থেকেই তার ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা ছিল। গত ৮ ফেব্রুয়ারি তিনি জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে গানম্যান চেয়ে আবেদন করলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন। তিনি আরও দাবি করেন, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকেই খাগড়াছড়িতে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে।

তার অভিযোগ, প্রভাবশালী কিছু প্রার্থী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন। এ বিষয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি তিনি যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ (দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক) এবং নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। তবে ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও অভিযোগের নিষ্পত্তি না হওয়ায় বিচার প্রক্রিয়ায় বিলম্ব ও পক্ষপাতের অভিযোগ তোলেন তিনি।

অভিযোগ নিষ্পত্তি ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন

একই সময়ে পরবর্তী একটি অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়ার বিষয়টিও তিনি প্রশ্নবিদ্ধ করেন। মোস্তফা দাবি করেন, তার অভিযোগে জেলা পরিষদের সদস্য ও কর্মকর্তাদের নাম থাকায় তদন্ত প্রক্রিয়া প্রভাবিত হয়েছে। এছাড়া কিছু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রকাশ্যে নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেওয়ার পরও তাদের নির্বাচনের দিন বিভিন্ন কেন্দ্রে পোলিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন, যা নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

তিনি জানান, খাগড়াছড়ি জেলার ১৮৯টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ এবং কেন্দ্র দখল ও ফলাফল প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে তিনি উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার ঘোষণা দিয়ে নির্বাচন স্থগিতের দাবি জানান। একই সঙ্গে হারিকেন প্রতীকের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মো. মোস্তফার এই সিদ্ধান্ত খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনের নির্বাচনী পরিবেশে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তার অভিযোগগুলো নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের জন্য চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। এখন দেখা যাক, এই বর্জনের ঘোষণার পর আসন্ন নির্বাচনে কী প্রভাব পড়ে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়।