ধানমন্ডি আইএসটি ভবনে ভোটকেন্দ্র দায়িত্বে বাধা: অধ্যক্ষ ও দুই নিরাপত্তাকর্মী আটক
রাজধানীর ঢাকা-১০ আসনের ধানমন্ডি এলাকায় ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (আইএসটি) ভবনে ভোটকেন্দ্রের দায়িত্ব পালনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগে ওই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও দুই নিরাপত্তাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আটককৃতদের পরিচয়
আটককৃতরা হলেন— প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো. আব্দুল মজিদ এবং দুই দারোয়ান কিরোন ও তানজিল। এই ঘটনাটি ভোটকেন্দ্রের কার্যক্রমে গুরুতর হস্তক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বাধার সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
সাইফুল ইসলাম জানান, ভোটকেন্দ্রটির প্রিসাইডিং অফিসার দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে আইএসটি ভবনে এসে প্রিন্সিপালের কক্ষ খুলে দেওয়ার জন্য দারোয়ানকে নির্দেশ দেন। তবে দারোয়ান কক্ষ খুলতে অস্বীকৃতি জানান এবং প্রিন্সিপালের কক্ষের চাবি চাইলে তাও দিতে অস্বীকার করেন। এই অসহযোগিতার ফলে ভোটকেন্দ্রের কাজে ব্যাঘাত ঘটে, যা নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে।
তিনি আরও জানান, পরে প্রিসাইডিং অফিসার বিষয়টি নিয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল মো. আব্দুল মজিদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন। তিনিও কক্ষ খুলে দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং বিষয়টি নিয়ে দেরি করেন। এই দেরি ভোটকেন্দ্রের প্রস্তুতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আটকের প্রক্রিয়া
ভোটকেন্দ্রের কাজে অসহযোগিতা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা অজিহাতনুরকে জানানো হয়। তাদের নির্দেশনায় ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রিন্সিপালসহ তিনজনকে আটক করা হয়। এই আটক প্রক্রিয়া নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করতে পারে।
এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপ প্রশংসনীয়, এবং এটি নির্বাচনী পরিবেশের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ধানমন্ডি থানা এখন বিষয়টির গভীর তদন্ত চালাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
