বিএনপি-জামায়াত জোটের বেসরকারি নির্বাচন ফলাফল প্রকাশ
বিএনপি-জামায়াত জোট বেসরকারি নির্বাচনে ১১৫ আসনে জয়লাভ করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। জামায়াত জোট ৩২ আসনে জয়ী হয়েছে, অন্যান্য দল ১ আসনে জয় পেয়েছে। বিরোধী দলগুলো নির্বাচন বয়কটের ইঙ্গিত দিয়েছে।
বিএনপি-জামায়াত জোট বেসরকারি নির্বাচনে ১১৫ আসনে জয়লাভ করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। জামায়াত জোট ৩২ আসনে জয়ী হয়েছে, অন্যান্য দল ১ আসনে জয় পেয়েছে। বিরোধী দলগুলো নির্বাচন বয়কটের ইঙ্গিত দিয়েছে।
রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে ‘শাপলা কলি’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং ১ লাখ ৪৭ হাজার ৯৪৭ ভোট পেয়েছেন।
বগুড়া-৬ আসনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। জামায়াতের প্রার্থী আবিদুর রহমান পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৬২৬ ভোট। ভোট পড়েছে ৭১.৩ শতাংশ।
পটুয়াখালী-২ বাউফল আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ৯৮,৪৩৮ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শহিদুল আলম তালুকদার পেয়েছেন ৭২,১৯১ ভোট।
বগুড়া-৬ (সদর উপজেলা) আসনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এক লাখ ১৮ হাজার ৬৫৮ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবিদুর রহমানের চেয়ে তিনি এগিয়ে আছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪, ময়মনসিংহ-১১, পটুয়াখালী-৩ সহ ১৪৮ আসনের বেসরকারি নির্বাচনে বিএনপি জোট ১১৫ আসনে জয়ী হয়েছে। জামায়াত জোট পেয়েছে ৩২ আসন, অন্যান্য ১ আসন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের আংশিক) স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ৫০ হাজার ৫৭৯ ভোট পেয়ে জয়ী হন, যেখানে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছেন ৩২ হাজার ৫৭৯ ভোট।
কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত সৈয়দ এহসানুল হুদা স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছেন। তার বাবা সৈয়দ সিরাজুল হুদা বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।
ঢাকা-১ আসনে (দোহার ও নবাবগঞ্জ) বেসরকারি ফলাফলে ধানের শীষের প্রার্থী আবু আশফাক বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন এক লাখ ৭৩ হাজার ৭৮১ ভোট, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম পেয়েছেন এক লাখ ১২ হাজার ৬২২ ভোট।
ফরিদপুর-২ আসনে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শামা ওবায়েদ জয়লাভ করেছেন। নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেছে, যা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মোড় নিতে পারে।
ফরিদপুর-১ আসনে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. মো. ইলিয়াস মোল্লা ২৮,৬৩৩ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ১,৫৪,৭৯৮ ভোট পেয়ে বিএনপির খন্দকার নাসিরুল ইসলামকে পরাজিত করেছেন।
বেসরকারিভাবে নির্বাচিত বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীদের মধ্যে ভোটের লড়াইয়ে বিএনপি জোট ১১৫ ও জামায়াত জোট ৩২ আসনে জয়ী হয়েছে। বিভিন্ন আসনে প্রার্থীদের ডাক ও ফলাফল নিয়ে বিশদ প্রতিবেদন।
হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে বিএনপির প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া ১ লাখ ১১ হাজার ৭৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাওলানা সিরাজুল ইসলাম পেয়েছেন ৫৫ হাজার ২৪৫ ভোট।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-০৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেন বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৭৮ হাজার ১৪১ ভোট, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ২৩ হাজার ৬৭৬ ভোট বেশি।
চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও আংশিক বায়েজিদ) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন প্রায় এক লাখ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৩ হাজার ৯৬৫ ভোট।
হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ–বাহুবল) আসনে বিএনপির প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া ১,১১,০৭৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১-দলীয় জোটের মাওলানা সিরাজুল ইসলাম পেয়েছেন ৫৫,২৪৫ ভোট।
পটুয়াখালী-৩ আসনে নুরুল হক নূরের বেসরকারি নির্বাচন জয়ের পর ঢাকা-৮ আসনে যাওয়ার ডাক দিয়েছেন। বিএনপি জোট ৯৬ ও জামায়াত জোট ৩২ আসনে জয়ী হয়েছে, অন্যান্য দল ১ আসনে জয় পেয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি চোখে পড়লেও দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ, জাল ভোটের অভিযোগ ও ভোট স্থগিতের ঘটনা ঘটেছে। বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি নেতারা অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ করলেও নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে মোটামুটি সন্তুষ্টি প
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পারফেক্ট না হলেও অতীতের তুলনায় যেকোনো মানদণ্ডে ভালো হয়েছে।
ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা-সালথা) আসনে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু ১,২০,৯০৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফতে মজলিশের মো. আকরাম আলী পেয়েছেন ৮৭,৯৫৬ ভোট।
বেসরকারিভাবে নির্বাচিত জামায়াতের এনামুল হক ঢাকা-৮ আসনে জয়ী হয়েছেন। বিএনপি জোট ৮৫ আসন, জামায়াত জোট ২৬ আসন এবং অন্যান্য ১ আসন পেয়েছে। যশোর-৬, রংপুর-৪, নীলফামারী-২ ও খাগড়াছড়িতে জামায়াত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ভোটের ফলাফল মেনে নেবেন তারা। বৃহস্পতিবার ঢাকা-১৫ আসনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তারিত মতামত দেন।
বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ১১২ আসনের ফলাফলে বিএনপি জোট ৮৫টি, জামায়াত জোট ২৬টি ও অন্যান্য ১টি আসনে জয়ী হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় প্রার্থীদের জয়-পরাজয়ের খবর নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন।
যশোর-১ (শার্শা) আসনের বেসরকারি ফলাফলে জামায়াত ইসলামের আজীজুর রহমান বিজয়ী ঘোষিত। তিনি বিএনপির নুরুজ্জামান লিটনকে ২৪ হাজার ৩৮২ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন।
চট্টগ্রাম-৭ আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হুম্মাম কাদের চৌধুরী। তিনি ১ লাখ ১ হাজার ৩৬৭ ভোট পেয়ে জামায়াত প্রার্থী এ টি এম রেজাউল করিমকে পরাজিত করেছেন।
ভোলা-১ আসনে বিএনপি মনোনীত বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ এক লাখ ৪ হাজার ৪৬২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর মো. নজরুল ইসলাম পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৭৭৩ ভোট।
ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ অব্যাহত। জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ভোটাধিকার রক্ষায় সবাইকে আসতে বলেছেন। প্রার্থী নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী ফলাফল পরিবর্তনের চেষ্টার দাবি করেছেন।
১১২ আসনের বেসরকারি ফলাফলে বিএনপি জোট ৮৫ আসন পেয়েছে, জামায়াত জোট ২৬ আসন এবং অন্যান্য ১ আসন। যশোর-৬, রংপুর-৪, নীলফামারী-২ সহ কয়েকটি আসনে জামায়াত ও এনসিপি প্রার্থীরা বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।
চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে ধানের শীষের ড. এহসানুল হক মিলন বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী আবু নছর আশরাফী তাকে ফেসবুকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। আংশিক ফলাফলে মিলন ১ লাখ ৩৩ হাজার ভোট পেয়েছেন।
যশোর-৬, নীলফামারী-২ ও খুলনা-৬ আসনে জামায়াত প্রার্থীরা বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। ইসি সচিব জানিয়েছেন, জামায়াতের তিন আসনে ভোট বাতিলের দাবি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।