পঞ্চগড়-১ আসনে বিএনপির নওশাদ জমিরের জয়, এনসিপির সারজিস আলমের শুভেচ্ছা
পঞ্চগড়-১ আসনে বিএনপির নওশাদ জমিরের জয়

পঞ্চগড়-১ আসনে বিএনপির নওশাদ জমিরের বিজয় ঘোষণা

পঞ্চগড়-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী মুহম্মদ নওশাদ জমির ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের বিপক্ষে ৮ হাজার ১২০ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টা ২০ মিনিটে পঞ্চগড়ের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান বেসরকারিভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করেন।

ভোটের বিস্তারিত ফলাফল

নওশাদ জমির ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৭৬ হাজার ১৬৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। অন্যদিকে, সারজিস আলম শাপলা কলি প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৬৮ হাজার ৪৯ ভোট। এই আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৭০০ জন। নির্বাচনে ভোট পড়ার হার দাঁড়িয়েছে ৭৭ দশমিক ৪১ শতাংশ। ফলাফল ঘোষণার সময় উভয় প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন।

সারজিস আলমের বক্তব্য ও শুভেচ্ছা

ফলাফল ঘোষণার পর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সারজিস আলম বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। ব্যারিস্টার নওশাদ জমির ভাই, আমি ওনাকে শুভেচ্ছা জানাতে এসেছি। আমি মনে করি, আমাদের জায়গা থেকে ওইটুকু মিউচুয়াল রেসপেক্ট ও সৎ সাহস থাকা উচিত যে আমরা যাঁর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি, জনগণ যদি তাঁকে এক ভোটেও এগিয়ে রাখে, তাঁকে ওইটুকু রেসপেক্ট আমাদের শো করা উচিত। সেই জায়গা থেকে আমি নিজে এসেছি ওনাকে অভিনন্দন জানাতে এবং ওনার খুশির মুহূর্তে পাশে থাকতে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘পাশাপাশি এই বার্তাটি দিতে যে ইনশা আল্লাহ আগামী পাঁচ বছর পঞ্চগড়-১ আসনে এনসিপি এবং আমরা যদি জোট হিসেবে ১১ দল পারফর্ম করি, তাহলে আমরা একসঙ্গে তাঁকে সব ভালো কাজে আমাদের জায়গা থেকে সহযোগিতা করব ইনশা আল্লাহ।’

পঞ্চগড়ের উন্নয়নে সহযোগিতার আহ্বান

সারজিস আলম বলেন, ‘আমরা এটাও প্রত্যাশা করি যে, আগামীতে খুব স্বাভাবিকভাবে যেকোনো বিষয়ের ক্ষেত্রে আমরা যারা রয়েছি, আমাদের দলের যারা নেতা-কর্মী রয়েছে, তারাও তাদের জায়গা থেকে যেকোনো যৌক্তিক বিষয়ে সর্বক্ষেত্রে সেই সহযোগিতাটকু পাবে। ইনশা আল্লাহ আমরা একসঙ্গে মিলেই দিন শেষে আমাদের পঞ্চগড়টাকে গড়তে হবে। আমাদের এই পঞ্চগড় অনেক বেশি পিছিয়ে থাকা একটা জেলা, তো আমরা যদি এই পলিটিক্যাল সম্পর্কের জায়গাটা আরও সুন্দর করতে পারি, আমাদের পঞ্চগড়কে এগিয়ে নেওয়ার জন্য এটা অনেক বেশি হেল্প করবে।’

এই নির্বাচনটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অংশ হিসেবে রংপুর বিভাগে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সারজিস আলমের এই বক্তব্য রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও সহযোগিতার একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।