শরীয়তপুরের তিন সংসদীয় আসনে বিএনপির ঐতিহাসিক বিজয়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুর জেলার তিনটি সংসদীয় আসনেই বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বেসরকারিভাবে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণা করেন। এই বিজয় স্বাধীনতা পরবর্তী প্রথমবারের মতো শরীয়তপুরের আসনগুলোতে বিএনপির নিরঙ্কুশ সাফল্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
শরীয়তপুর-১ আসনে সাঈদ আহমেদ আসলামের জয়
শরীয়তপুর-১ (পালং-জাজিরা) আসনে ১৩৯টি কেন্দ্র ও পোস্টাল ভোটের ফলাফলে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এবং জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ আহমেদ আসলাম ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৭৭,৩৯৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় ঐক্যের জালালুদ্দীন আহমদ (রিকশা প্রতীক) পেয়েছেন ৬২,৭১৭ ভোট। ১৪,৬৮১ ভোটের ব্যবধানে সাঈদ আহমেদ আসলাম বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।
শরীয়তপুর-২ আসনে শফিকুর রহমান কিরণের বিশাল ব্যবধান
শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া-সখিপুর) আসনে ১৩৬টি কেন্দ্র ও পোস্টাল ভোটের ফলাফলে জেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুর রহমান কিরণ ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১,২৯,৮১৪ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় ঐক্যের ডা. মাহমুদ হোসেন (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক) পেয়েছেন ৭০,৮৯২ ভোট। ৫৮,৯২২ ভোটের ব্যবধানে জয় পান শফিকুর রহমান কিরণ, যা এই আসনে একটি উল্লেখযোগ্য ব্যবধান হিসেবে রেকর্ড হয়েছে।
শরীয়তপুর-৩ আসনে মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপুর সাফল্য
শরীয়তপুর-৩ (ডামুড্যা-গোসাইরহাট-ভেদরগঞ্জ) আসনে ১১৭টি কেন্দ্র ও পোস্টাল ভোটের ফলাফলে বিএনপি’র প্রার্থী তারেক রহমানের সাবেক একান্ত সচিব মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১,০৭,৫১৬ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় ঐক্যের মনোনীত প্রার্থী মুহাম্মদ আজহারুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক) পেয়েছেন ৬৯,৬৮৪ ভোট। ৩৭,৮৩২ ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হন মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু।
এই নির্বাচনী ফলাফল শরীয়তপুরে বিএনপির রাজনৈতিক শক্তির একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগমের ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই বিজয়গুলি বিএনপির জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
