মোহাম্মদপুরে অপরাধীরা সুযোগ নিচ্ছে, কৌশল বদলাচ্ছে র‍্যাব
মোহাম্মদপুরে অপরাধীরা সুযোগ নিচ্ছে, কৌশল বদলাচ্ছে র‍্যাব

র‌্যাব-২ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোহাম্মদপুরে দুর্বল না। তবে অপরাধীরা একটা সুযোগ নিচ্ছে। এ কারণে আমরাও আভিযানিক টেকনিক পরিবর্তন করছি; যাতে অপরাধীরা সুবিধা করতে না পারে।

বুধবার (১৭ জুন) বিকালে রাজধানীর কাওরান বাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য বলেন।

এর আগে রাজধানীর আদাবরে বিকাশের দোকানিকে কুপিয়ে টাকা ছিনতাই এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও উপ-পরিদর্শককে (এসআই) কুপিয়ে জখমের ঘটনায় ছয় জনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-২। মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাত থেকে বুধবার (১৭ জুন) ভোর পর্যন্ত মোহাম্মদপুর, আদাবর ও মিরপুরের ৬০ ফিট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলো– মোহাম্মদপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ফরিদ আহমেদ বাবু ওরফে এক্সেল বাবু, কবজি কাটা গ্রুপের সেকেন্ড ইন কমান্ড আবু সাঈদ (৩৩), রাশেদ খন্দকার (৩২), মো. লিটন (২৮), মো. তসির (৩০) ও তরিকুল ইসলাম (২৫)।

র‍্যাব বলছে, কবজি কাটা গ্রুপের প্রধান আনোয়ার ও বর্তমান সেকেন্ড ইন কমান্ড আবু সাঈদের গুরু এক্সেল বাবু। তার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে তারা ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। এক্সেল বাবুর মতো পৃষ্ঠপোষকদের আটক না করা পর্যন্ত আমরা একটু এগ্রেসিভ পুলিশিং করতে চাই।

অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান বলেন, মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে আদাবরের শেখেরটেক-৭ নম্বর এলাকার একটি বিকাশের দোকানে ঢুকে সশস্ত্র ছিনতাইকারীরা বিকাশ এজেন্টকে প্রকাশ্যে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। এ সময় তারা দোকানির কাছ থেকে প্রায় ৩ লাখ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি বলেন, ঘটনার পর তথ্যের ভিত্তিতে আদাবর থানা-পুলিশ তুরাগ হাউজিং এলাকায় অভিযান চালালে ছিনতাইকারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। হামলায় আদাবর থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম এবং এসআই তরুণ গুরুতর আহত হন। এ সময় আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে আমির ও রুবেল নামে দুই ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তাৎক্ষণিক অভিযানে আমির ও রুবেলসহ মোট ছয় জনকে আটক করে পুলিশ।

র‌্যাব-২ এর অধিনায়ক বলেন, ঘটনার পর চক্রের মূলহোতাসহ অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতার এবং অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে র‍্যাব-২ এর গোয়েন্দা দল ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে গোয়েন্দা তথ্যে র‍্যাব-২ এর একটি দল মোহাম্মদপুর ও মিরপুরের ৬০ ফিটের পীরেরবাগ এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ওই ছয় জনকে গ্রেফতার করা হয়।

কবজি কাটা গ্রুপের সঙ্গে এক্সেল বাবুর সম্পৃক্ততার বিষয় জানতে চাইলে র‍্যাব-২ এর অধিনায়ক বলেন, কবজি কাটা গ্রুপের সঙ্গে শীর্ষ সন্ত্রাসী এক্সেল বাবুর সম্পৃক্ততা সে নিজেই স্বীকার করেছে। এক্সেল বাবু কবজি কাটা গ্রুপের প্রধান আনোয়ার ও আবু সাঈদের গুরু। এক্সেল বাবুর মতো পৃষ্ঠপোষকদের আমরা যতক্ষণ পর্যন্ত আটক করতে পারবো না, ততক্ষণ এই গ্যাংগুলো একটিভ হতে থাকবে। এ কারণে আমরা একটু এগ্রেসিভ পুলিশিং করতে চাই।

এ ধরনের ছিনতাইকারী ও অপরাধ কন্ট্রোল করা এবং দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার বিষয় র‍্যাব কি ধরনের পদক্ষেপ নেবে জানতে চাইলে অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান বলেন, সম্প্রতি পল্লবীতে একটি শিশু হত্যা ও ধর্ষণ মামলা দ্রুততম সময়ে তদন্ত শেষ হয়েছে। যদি ছিনতাইকারী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর ক্ষেত্রে যদি এ ধরনের প্রসেস থাকতো, দ্রুততম সময়ে বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনও ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে যেতো তাহলে, আমার মনে হয় জনগণ আরও বেশি নিরাপদ বোধ করতো।

তিনি বলেন, শুধু আমরা (র‍্যাব) আটক করি, তদন্ত করি। পুরো প্রচেষ্টা ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেমের একটা অংশ। বাকি সিস্টেম সংশ্লিষ্ট যারা রয়েছেন, তারা ভেবে দেখতে পারেন। আমার মনে হয়, এতে করে আমরা উপকৃত হবো।

মোহাম্মদপুরে অপরাধীরা রাজনৈতিক সেল্টার পাচ্ছে কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, এ ধরনের সুযোগ কম। কারণ নতুন সরকার এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে জিরো টলারেন্স। যদি কেউ জড়িত থাকে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।