শেরওয়ানি আনতে ফ্লাইট আটকে: যাত্রীদের তিন ঘণ্টা ভোগান্তি
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফার্স্ট অফিসার গোলাম রাব্বি প্রিন্স তার শেরওয়ানি বাসায় ফেলে আসায় এয়ার অ্যাস্ট্রার একটি ফ্লাইট ট্যাক্সিওয়ে থেকে ফিরিয়ে আনেন। এতে প্রায় ১০০ যাত্রী প্রায় তিন ঘণ্টা বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে বাধ্য হন। শুক্রবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী ফ্লাইট ২এ-৪১৫টি উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। বোর্ডিং শেষে বিমানটি ট্যাক্সিওয়ে যাওয়ার পর প্রিন্স নিজের অফিসিয়াল পরিচয়পত্র দেখিয়ে হট্টগোল শুরু করেন এবং বিমান থামানোর দাবি জানান।
পরিচয়পত্রের প্রভাবে ফ্লাইট ফিরিয়ে আনা
কেবিন ক্রু প্রিন্সকে জানান, জরুরি চিকিৎসা বা নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতি ছাড়া ট্যাক্সিওয়ে থেকে বিমান ফিরিয়ে আনার নিয়ম নেই। কিন্তু প্রিন্স নিজের পরিচয়পত্র দেখিয়ে চাপ সৃষ্টি করেন। অভিযোগ, এয়ার অ্যাস্ট্রার পাইলট তার পূর্বপরিচিত হওয়ায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিমানটি থামানোর সিদ্ধান্ত নেন। শেষ পর্যন্ত সব নিয়ম ও প্রটোকল উপেক্ষা করে ফ্লাইটটি টার্মিনালে ফিরিয়ে আনা হয়।
শেরওয়ানির জন্য যাত্রীদের দুর্ভোগ
প্রিন্স চট্টগ্রামে বিয়ের অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন এবং তাড়াহুড়োয় শেরওয়ানি বাসায় ফেলে আসেন। এ কারণে উড্ডয়নের প্রস্তুতি চলাকালেই তিনি বিমান থেকে নেমে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তার এই খামখেয়ালিপূর্ণ আচরণের কারণে শিশু-বৃদ্ধসহ প্রায় ১০০ যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েন। যাত্রীদের প্রায় তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় এবং শেরওয়ানি আনার পর দুপুর প্রায় ১টার দিকে ফ্লাইটটি চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করলেও এয়ার অ্যাস্ট্রার পক্ষ থেকে কোনো খাবার বা পানীয়ের ব্যবস্থা করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন একাধিক যাত্রী।
বিশেষজ্ঞের মতামত: নিরাপত্তা প্রটোকল লঙ্ঘন
অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম যুগান্তরকে বলেন, গুরুতর চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থা, নিরাপত্তার হুমকি, যান্ত্রিক ত্রুটি বা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের নির্দেশ ছাড়া বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ ট্যাক্সিওয়ে থেকে ফিরিয়ে আনার সুযোগ নেই। কোনো যাত্রীর ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বিমান ফিরিয়ে আনা হলে সেটি অপারেশনাল সিদ্ধান্ত, নিরাপত্তা প্রটোকল এবং পেশাগত নৈতিকতা—এ তিন ক্ষেত্রেই প্রশ্ন তৈরি করে। এমন পরিস্থিতিতে যাত্রী নেমে গেলে তার লাগেজও নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী নামানো, পুনরায় সিকিউরিটি চেক এবং পূর্ণ তদন্ত করা উচিত। তিনি অন্য এয়ারলাইন্সের অফিসার হলেও এ ফ্লাইটের সাধারণ যাত্রী। সরকারি পরিচয় বা পদমর্যাদার প্রভাব খাটিয়ে যাত্রী নিরাপত্তা হুমকি তৈরির কারণে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।
আইকাও বিধি ও নিরাপত্তা লঙ্ঘনের অভিযোগ
আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) বিধি অনুযায়ী, গুরুতর জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া ট্যাক্সিওয়ের পর বিমান ফিরে আসার সুযোগ নেই। কোনো যাত্রী মাঝপথে নেমে গেলে নিরাপত্তার স্বার্থে ওই যাত্রীর সব লাগেজও বিমান থেকে নামিয়ে পুনরায় নিরাপত্তা পরীক্ষা করতে হয়। এতে ফ্লাইটের আগের ক্লিয়ারেন্স বাতিল হয়ে যায় এবং নতুন করে স্লট নিতে হয়। অভিযোগ উঠেছে, একজন কর্মকর্তার পরিচয়পত্রের প্রভাবের কারণে এয়ার অ্যাস্ট্রা এসব নিরাপত্তা প্রটোকল লঙ্ঘন করেছে।
তদন্তের নির্দেশ মন্ত্রীর
বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেন, এটি খুব গুরুতর ঘটনা। এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি বিষয়টির খোঁজখবর নিচ্ছি। তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ ঘটনায় এয়ার অ্যাস্ট্রা এবং সংশ্লিষ্ট বিমানের পাইলট উভয়কেই তদন্তের আওতায় আনা হবে। যাত্রী হয়রানির বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ বলেন, যাত্রীদের কিছুটা দুর্ভোগ হয়েছে, সেটি আমরা অস্বীকার করছি না। তবে কোনো যাত্রী অভিযোগ করলে এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



