ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর দ্বীন ইসলামকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, পরিবার প্রভাবশালী চক্রের দায়ী
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর হত্যা, পরিবার প্রভাবশালী চক্রের অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর হত্যা: পরিবার প্রভাবশালী চক্রের অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলায় এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে তার বাড়ি থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। নিহত ব্যক্তির নাম দ্বীন ইসলাম, যিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়ভাবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে ভিডিও তৈরি করতেন। এই ঘটনায় পরিবার সরাসরি একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে, যদিও অভিযুক্তরা এতে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করছেন।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

মঙ্গলবার দুপুরে কসবা উপজেলার মেহারী ইউনিয়নের শিমরাইল গ্রামে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২০ থেকে ৩০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দ্বীন ইসলামকে তার বাসভবন থেকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয় এবং গুরুতর আহত অবস্থায় বুড়ি নদী পার করে কুমিল্লার বাঙ্গরা থানার গাঙ্গেরকুট এলাকায় ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।

পরিবারের সদস্যরা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বাঙ্গরা থানার পুলিশ দ্বীন ইসলামকে উদ্ধার করে কসবা থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নিহতের পরিচয় ও পরিবারের অভিযোগ

নিহত দ্বীন ইসলাম শিমরাইল গ্রামের সফিকুর ইসলাম ও পারুলী বেগমের ছেলে ছিলেন। তিনি ফেসবুক ও ইউটিউবে ‘তালাশ ক্রাইম দৃষ্টি’ নামে একটি পেইজ পরিচালনা করতেন, যেখানে মাদক ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করতেন। পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, এই ধরনের ভিডিও প্রকাশের কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তারা স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মো. আবদুল আওয়াল ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন। তবে আবদুল আওয়াল এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন এবং তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে জড়ানো হচ্ছে।

পুলিশের তদন্ত ও পদক্ষেপ

কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজনীন সুলতানা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে কয়েকজন ব্যক্তি দ্বীন ইসলামকে তুলে নিয়ে মারধর করে হত্যা করেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে এবং তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।

এই ঘটনা স্থানীয় সম্প্রদায়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, অনেকেই নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং দ্রুত বিচার দাবি করছেন। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে ভিডিও তৈরি করা কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।