সাভারের 'সিরিয়াল কিলার' সম্রাট কারাগারে মৃত্যুবরণ করেছেন
ঢাকার সাভারের কুখ্যাত 'সিরিয়াল কিলার' হিসেবে পরিচিত ভবঘুরে সম্রাট, যার প্রকৃত নাম সবুজ শেখ, কারাগারে মারা গেছেন। মঙ্গলবার সকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসেছে।
কারাগারে হঠাৎ অসুস্থতা ও মৃত্যুর বিস্তারিত বিবরণ
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্রাট ওরফে সবুজ শেখ কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি অবস্থায় ছিলেন। সকালবেলা তিনি হঠাৎ করে তীব্র বুকে ব্যথা অনুভব করেন এবং মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। কারাগার কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি লক্ষ্য করে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দিয়ে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে স্থানান্তর করেন। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক দল প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মো. হেলাল উদ্দিন এই মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে সম্রাট হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তবে মৃত্যুর সঠিক ও চূড়ান্ত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছেন কর্তৃপক্ষ। ময়নাতদন্তের ফলাফল পেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সম্রাটের গ্রেফতার, মামলা ও পারিবারিক পরিচয়
পুলিশের তথ্য অনুসারে, প্রায় দুই মাস আগে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে সম্রাট অবিরাম কারাগারেই আটক ছিলেন। তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলার স্থায়ী বাসিন্দা পান্না শেখের পুত্র হিসেবে পরিচিত। তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয় সন্তান ছিলেন। তার পরিবার এই মর্মান্তিক খবরে শোকাহত বলে জানা গেছে।
গত ১৯ জানুয়ারি সাভার এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে সংঘটিত জোড়া খুনের মামলায় সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আরও কয়েকটি নির্মম হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন বলে পুলিশ দাবি করেছে। মোট ছয়টি পৃথক হত্যা মামলায় তাকে প্রাথমিক আসামি করা হয়েছিল। আদালতে হাজির করার পর তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয় এবং সেই থেকে তিনি কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারেই আটক ছিলেন।
মৃত্যু পরবর্তী অবস্থা ও তদন্তের অগ্রগতি
সম্রাটের মৃত্যু ঘটনায় কারাগার কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট চূড়ান্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে। এই ঘটনা কারাগারে বন্দিদের স্বাস্থ্য সেবা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, সকল প্রকার আইনি প্রক্রিয়া সঠিকভাবে অনুসরণ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



