কক্সবাজারে মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের এএসআই'র মৃত্যু: হামলার দাবি নাকচ
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়ে পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত ব্যক্তি রূপম কান্তি দে (৪২) চকরিয়া থানার আওতাধীন হারবাং পুলিশ ফাঁড়িতে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার হারবাং স্টেশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, উপপরিদর্শক মোফাজ্জল হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল হারবাং এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদক মামলার আসামি জুনায়েদকে আটক করে। আটকের পর স্টেশনে অবস্থানকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন রূপম কান্তি দে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় তার নাক-মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে দেখা যায়। তাকে দ্রুত চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
হামলার দাবি ও পুলিশের বক্তব্য
ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাদকবিরোধী অভিযানে হামলার শিকার হয়ে রূপম কান্তি দে'র মৃত্যু এবং মোফাজ্জল হোসেন আহত হয়েছেন বলে তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ দাবি নাকচ করেছে চকরিয়া থানা ও জেলা পুলিশ। চকরিয়া থানার ওসি মনির হোসেন জানান, হামলার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি এবং নিহত রূপম কান্তি দে এর আগেও দুবার স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, স্ট্রোকজনিত কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
চিকিৎসক ও প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য
প্রত্যক্ষদর্শীরাও ঘটনাস্থলে কোনো হামলার বিষয় দেখেননি বলে জানিয়েছেন। চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মিনহাজুল ইসলাম জানান, মৃতদেহে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
একই সময়ে এসআই মোফাজ্জল হোসেনও অসুস্থ হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন, তবে তার অবস্থা এখন স্থিতিশীল বলে জানা গেছে। নিহত রূপম কান্তি দে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কদমতলী গ্রামের বাসিন্দা মৃত হরিপদ দের ছেলে। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, মাদকবিরোধী অভিযানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং আসামি জুনায়েদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।



