কক্সবাজারে মাদক অভিযানে পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু: হামলার গুজব নাকচ
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার হারবাং স্টেশন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে পুলিশ কর্মকর্তা রূপণ কান্তি দে'র মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৩ মার্চ) সন্ধ্যায় এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনাটি ঘটে। নিহত রূপণ কান্তি দে হারবাং পুলিশ ফাঁড়িতে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
অভিযানের বিবরণ ও আকস্মিক অসুস্থতা
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, উপপরিদর্শক (এসআই) মোফাজ্জল হোসেনের নেতৃত্বে একটি পুলিশ দল ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদক মামলার আসামি জুনায়েদকে আটক করে। আটকের পর স্টেশনে অবস্থানকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন রূপণ দে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় তার নাক-মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে দেখা যায়। তাকে দ্রুত চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। একই সময়ে এসআই মোফাজ্জল হোসেনও অজ্ঞান হয়ে পড়েন, তবে তার অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানা গেছে।
সামাজিক মাধ্যমে গুজব ও পুলিশের বক্তব্য
ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাদকবিরোধী অভিযানে হামলার শিকার হয়ে রূপণ দে'র মৃত্যু এবং মোফাজ্জল হোসেন আহত হয়েছেন বলে তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। তবে এই দাবি নাকচ করেছে চকরিয়া থানা ও জেলা পুলিশ কর্তৃপক্ষ। চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন বলেন, ‘হামলার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এর আগেও রূপণ কান্তি দে দুবার স্ট্রোক করেছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, স্ট্রোকজনিত কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।’
প্রত্যক্ষদর্শী ও চিকিৎসকের মতামত
প্রত্যক্ষদর্শীরাও ঘটনাস্থলে কোনো হামলার বিষয় দেখেননি বলে জানিয়েছেন। চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মিনহাজুল ইসলাম জানান, মৃতদেহে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তিনি উল্লেখ করেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এই ঘটনায় পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে নিহত কর্মকর্তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, মাদকবিরোধী অভিযানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং আসামি জুনায়েদকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন এবং পুলিশের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।



