গুলশানে বাড়ি দখল কাণ্ডে সমালোচিত এসি মাসুদ বদলি, ডিএমপি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে
রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানে ঈদের ছুটিতে একটি বাড়ি দখলের অভিযোগে সমালোচনার মুখে পড়া সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) আলী আহম্মেদ মাসুদকে বদলি করা হয়েছে। সোমবার (২৩ মার্চ) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ারের সই করা অফিস আদেশে তার বদলির তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
দখলের ঘটনা ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ
অভিযোগ রয়েছে, গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে গুলশান ১ নম্বর এলাকার ১২৭ নম্বর রোডের ১৫ নম্বর বাড়িতে ভাঙচুর, লুটপাট ও দখলের ঘটনা ঘটে। বাড়ির মালিকের দাবি, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গুলশান জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আলী আহম্মেদ মাসুদ, এসআই মাহফুজুল হক, এসআই মো. সামিউল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন পুলিশের উপস্থিতিতে এবং তাদের মদতেই এই দখলের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। ঘটনাটি পুলিশের সামনেই ঘটলেও উল্টো ভুক্তভোগীদেরই হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশ ও ব্যাপক সমালোচনা
বিষয়টি সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এই সমালোচনার প্রেক্ষিতে সোমবার সহকারী পুলিশ কমিশনার আলী আহম্মেদ মাসুদকে ডিএমপির মানবসম্পদ বিভাগে (এইচআরডি) সহকারী পুলিশ কমিশনার (ট্রেনিং) হিসেবে বদলি করা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় অভিযুক্ত অন্য পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে— তা নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়ে গেছে।
ডিএমপির তদন্ত ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
ডিএমপি সূত্র থেকে জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে মাসুদসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই পদক্ষেপটি নাগরিকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি এনেছে, তবে তদন্তের ফলাফল ও দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি উঠছে।
এই ঘটনা পুলিশ বাহিনীর ভেতরে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান করা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়।



