উত্তরায় রিকশাচালকের মৃত্যুতে রাতভর সহিংসতা, সকালে সড়ক অবরোধ
রাজধানীর উত্তরায় এক রিকশাচালকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকরা রোববার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত নজিরবিহীন তাণ্ডব ও সহিংসতা চালিয়েছে। উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টর ও আশপাশের এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়ায় পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়।
ঘটনার সূত্রপাত ও উত্তেজনার বিস্তার
রোববার রাতে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের উত্তরা স্কয়ার শপিং মলের সামনে এক রিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে ভবনের নিরাপত্তা প্রহরীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, নিহতের মরদেহ আড়াল করার চেষ্টা করা হলে সাধারণ চালকরা বিষয়টি টের পেয়ে যান। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কয়েকশ রিকশাচালক একত্রিত হয়ে উত্তরা স্কয়ারে চড়াও হন এবং উত্তেজিত জনতা শপিং মলে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।
বিক্ষোভের রেশ ধরে রিকশাচালকরা উত্তরা পশ্চিম থানায় গিয়েও হামলা চালায় এবং ভবনের সামনে রাখা যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করে। পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি শুরু করেন। পুলিশের টিয়ারশেল নিক্ষেপের পর এলাকাটি সহিংস রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
সকালে অবরোধ ও যানজটের সৃষ্টি
রাতের উত্তেজনার রেশ সোমবার সকালেও কাটেনি। রিকশাচালকরা উত্তরার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন, যা উত্তরা হয়ে বিমানবন্দর ও টঙ্গীমুখী সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি করেছে। সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এবং যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
রিকশাচালকদের দাবি, সহকর্মীকে হত্যার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার করতে হবে। তারা নিহতের ন্যায়বিচার চাইছে এবং এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করছে।
পুলিশের পদক্ষেপ ও আইনি প্রক্রিয়া
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে এবং এলাকায় বিপুল সংখ্যক দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
নিহতের প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি সম্পদ নষ্ট করার বিষয়েও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
বর্তমানে এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর নজরদারি চলছে এবং সাধারণ মানুষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। ঘটনাটি উত্তরা ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।



