উত্তরায় শপিং কমপ্লেক্সে ভাংচুর, রিকশাচালকের মৃত্যু গুজবে উত্তাল রাত
উত্তরায় শপিং কমপ্লেক্সে ভাংচুর, রিকশাচালকের মৃত্যু গুজবে উত্তেজনা

উত্তরায় শপিং কমপ্লেক্সে ভাংচুর, রিকশাচালকের মৃত্যু গুজবে উত্তাল রাত

রাজধানীর উত্তরার একটি শপিং কমপ্লেক্সে রিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যা ও লাশ গোপন করার গুজবে উত্তেজিত হয়ে স্থানীয়রা ভাংচুর চালিয়েছে। সোমবার ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত চলা এই ঘটনায় পুলিশ ও উত্তেজিত জনতার মধ্যে ধারাবাহিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

গুজবের সূত্রপাত ও উত্তেজনার বিস্তার

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার রাতে শপিং কমপ্লেক্সের একটি নিরাপত্তা প্রহরী ও এক রিকশাচালকের মধ্যে বিবাদ শুরু হয়। এই বিবাদ ধীরে ধীরে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে রিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে এবং তার লাশ কমপ্লেক্স ভবনের ভিতরে লুকিয়ে রাখা হয়েছে।

এই অভিযোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর রিকশাচালকরা ও স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তা অবরোধ করে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। তারা শপিং কমপ্লেক্সের সামনে জমায়েত হয়ে ভবনের বিভিন্ন অংশে ভাংচুর চালান। উত্তরা স্কয়ার শপিং কমপ্লেক্স ভবনের সামনে রাত ১২টা ৩০ মিনিটের দিক থেকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশ মোতায়েন ও সংঘর্ষের ঘটনা

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন করা হয়। ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো যখন উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে এগিয়ে আসে, তখন স্থানীয়দের সাথে ধাপে ধাপে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষের সময় বিক্ষোভকারীরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ ও ব্যাটন চার্জের মাধ্যমে জবাব দেয়। রাতভর চলা এই অস্থিরতা শেষ পর্যন্ত ভোর ৩টা ৩০ মিনিটের দিকে নিয়ন্ত্রণে আসে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের বক্তব্য ও তদন্তের অগ্রগতি

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যৌথ কমিশনার ওয়াহিদুল ইসলাম জানান, একজন ব্যক্তির নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, তবে তার পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। তিনি বলেন, "যদিও বলা হচ্ছে একজন নিখোঁজ হয়েছেন, কিন্তু তার নাম ও ঠিকানা এখনও পাওয়া যায়নি। কেউ নিহত হয়েছেন কিনা তাও নিশ্চিত নয়। বিষয়টি নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হবে। সেনাবাহিনী ও পুলিশ ভবনের ভিতরে তল্লাশি চালিয়েছে কিন্তু এখনও পর্যন্ত কিছু পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।"

এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ও গুজব ছড়ানো বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হবে।