রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রকাশ্যে এলোপাতাড়ি গুলি, আহত ভিডিও কনটেন্ট ক্রিয়েটর
শহীদ মিনারে গুলি, আহত ভিডিও ক্রিয়েটর, আটক এক

রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রকাশ্যে এলোপাতাড়ি গুলি, আহত ভিডিও কনটেন্ট ক্রিয়েটর

রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় প্রকাশ্যে এলোপাতাড়ি গুলির এক ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (১৫ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এই ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, হঠাৎ এক যুবক শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে এলোপাতাড়ি চার রাউন্ড গুলি চালায়।

আতঙ্কে কেঁপে ওঠে এলাকা

গুলির তীব্র শব্দে পুরো এলাকা আতঙ্কে কেঁপে ওঠে এবং উপস্থিত জনতা দ্রুত এগিয়ে গিয়ে হামলাকারী সন্দেহে এক যুবককে ধরে ফেলে। পরে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রক্টরিয়াল টিম সন্দেহভাজন যুবককে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমদ ঘটনা সম্পর্কে মন্তব্য করেন, “ওখানে যা হয়েছে, তা এখন আমরা দেখছি। এখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ জড়িত নয়। যে গুলি করেছে এবং যে আহত হয়েছে, দুই জনই বাইরের। পুলিশ একজনকে আটক করেছে।”

আহত ব্যক্তির পরিচয় ও অবস্থা

গুলির ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত ব্যক্তির নাম রাকিব (২৭), যিনি একজন ভিডিও কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিত। তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা জিএম ইশান জানান, “রাতে তারা কয়েকজন বন্ধু শহীদ মিনারের পাশে আড্ডা দিচ্ছিল। হঠাৎ কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ হয়। এগিয়ে গিয়ে দেখি ওই যুবক রক্তাক্ত অবস্থায় পরে আছে। এরপর দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

হাসপাতালে আহত রাকিবের বন্ধু মো. রনি ঘটনার আরও বিস্তারিত বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, “রাতে রাকিবসহ কয়েকজন মেয়ে বন্ধু শহীদ মিনারের পাশে চায়ের দোকানে চা খাচ্ছিলো। এসময় এক যুবক তাকে ডেকে নিয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পর গুলির শব্দ পেয়ে শহীদ মিনারের উপড়ে গিয়ে দেখি রাকিব রক্তাক্ত অবস্থায় পরে আছে। তার মাথায় গুলিবিদ্ধসহ শরীরের একাধিক জায়গায় কোপানোর আঘাত রয়েছে। এরপর সেখানে থাকা লোকজন দৌড়ে একজনকে ধরে ফেলে। বর্তমানে সে শাহবাগ থানা হেফাজতে রয়েছে।”

এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং আটককৃত সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। শহীদ মিনার এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।