গাজীপুরে আয়োজিত একটি সুধী সমাবেশে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, 'দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত পুলিশ ছাড়া সমাজ চলবে না'। তার মতে, হাসপাতালে শিশুর জন্মের পর পাহারা দেওয়া থেকে শুরু করে কবরস্থানে কঙ্কাল চুরি রোধে পুলিশের ভূমিকা অপরিহার্য।
পুলিশের সংস্কার ও দায়িত্ব পালন
আইজিপি আলী হোসেন ফকির বলেন, 'ফ্যাসিস্ট যুগের পুলিশ যাতে দেশে না থাকে, সেজন্য আমরা কাজ করছি'। তিনি পুলিশ বাহিনীর ভিতরে মাদক ও দুর্নীতির সমস্যা তুলে ধরেন। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তার ভিজিটের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে তিনি বলেন, কিছু পুলিশ সদস্য মাদকের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। তিনি দৃঢ়ভাবে জানান, 'যারা আইন মানে না বা খারাপ কাজে জড়িত, তারা পুলিশে থাকবে না'।
থানা ব্যবস্থার পরিবর্তন
আইজিপি আরও বলেন, আগে ওসিরা এলাকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতার মালিক ছিলেন, কিন্তু এখন সেই ব্যবস্থা বদলাতে হবে। তিনি পুলিশকে জনগণের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। 'বাদী-বিবাদী দুই পক্ষের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার প্রবণতা ছিল, যা বন্ধ করতে হবে'। তিনি সতর্ক করে দেন, যারা এই নেতৃত্বের কারণে বিতাড়িত হয়েছে, তাদের থেকে শিক্ষা নিতে হবে, নয়লে শাস্তি পেতে হবে।
মাদকের প্রভাব ও সমাজের চ্যালেঞ্জ
গাজীপুরে ২০টি বস্তিতে মাদকের ছড়াছড়ি নিয়ে আইজিপি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, 'মাদক তরুণসমাজকে পঙ্গু করছে এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে'। পরিবার ও সমাজের সদস্যদের সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন তিনি।
অর্থনীতি ও শান্তির গুরুত্ব
আলী হোসেন ফকির গাজীপুর ও চট্টগ্রামকে বাংলাদেশের অর্থনীতির লাইফ লাইন হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, 'এখানে শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হলে অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন সম্ভব নয়'। বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলতে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
শ্রমিক আন্দোলন ও ব্যবস্থাপনা
শ্রমিক আন্দোলন প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, '৯৯ শতাংশ শ্রমিক নিরীহ, কিন্তু ১ শতাংশ লোক দেশি-বিদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়নে তৎপর'। তিনি রাস্তা অবরোধ করে যানজট ও অর্থনৈতিক ক্ষতি সৃষ্টিকারীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন।
অন্যান্য অংশগ্রহণকারী
সুধী সমাবেশে গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার, গাজীপুরের পুলিশ সুপার শফিক উদ্দিনসহ ব্যবসায়ী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক দলের নেতারা বক্তব্য দেন। অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) আহম্মেদ হোসেন ভূঁইয়া, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার তাহেরুল হক চৌহান এবং গাজীপুরের পুলিশ সুপার শরিফ উদ্দীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
