রংপুরের তারাগঞ্জে পিটুনি হত্যা মামলার আসামি মাজেদুল ইসলাম গ্রেপ্তার
পিটুনি হত্যা মামলার আসামি মাজেদুল ইসলাম গ্রেপ্তার

রংপুরের তারাগঞ্জে পিটুনি হত্যা মামলার আসামি মাজেদুল ইসলাম গ্রেপ্তার

রংপুরের তারাগঞ্জে ভ্যান চোর সন্দেহে পিটুনিতে জামাই-শ্বশুর হত্যাকাণ্ড মামলার আসামি মাজেদুল ইসলামকে (২৪) গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাবের একটি দল। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে তারাগঞ্জ উপজেলার ফকির পাড়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে আটক করা হয়। মাজেদুল ওই গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে বলে জানা গেছে।

র‍্যাবের বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য নিশ্চিত

আজ শুক্রবার বিকেলে র‍্যাব-১৩–এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, পিটুনিতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর থেকে দীর্ঘদিন ধরে আসামি মাজেদুল ইসলাম পলাতক ছিলেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‍্যাব-১৩–এর একটি বিশেষ দল তাঁর বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

থানায় হস্তান্তর ও আদালতে প্রেরণ

এ বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাজেদুল ইসলামকে তারাগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন জানান, মাজেদুলকে গ্রেপ্তারের পর র‍্যাব পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। বিকেলে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

মামলার পটভূমি ও ঘটনার বিবরণ

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৯ আগস্ট রাতে তারাগঞ্জ উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাট বটতলা এলাকায় কুর্শা ইউনিয়নের ঘনিরামপুর এলাকার রূপলাল রবিদাস (৪০) ও মিঠাপুকুর উপজেলার বালুয়াভাটা গ্রামের প্রদীপ রবিদাসকে (৩৫) ভ্যান চোর সন্দেহে স্থানীয়রা নির্মম পিটুনি দেয়। পরে তাঁদের তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা রূপলালকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রদীপ লাল রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

প্রদীপ লাল রবিদাস সম্পর্কে রূপলাল রবিদাসের ভাগনির স্বামী ছিলেন। এ ঘটনার পরদিন নিহত রূপলালের স্ত্রী মালতি রানী ওরফে ভারতী রানী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৭০০ জনকে আসামি করে তারাগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি তখন থেকে তদন্তাধীন ছিল এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা চলছিল।

গ্রেপ্তারের তাৎপর্য ও সামাজিক প্রভাব

মাজেদুল ইসলামের গ্রেপ্তার এই মামলায় একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে এই ঘটনা গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল, এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি জোরালো ছিল। র‍্যাবের এই সফল অভিযান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয়তাকে প্রতিফলিত করে এবং অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের আশা জাগিয়ে তোলে।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা গণপিটুনির ভয়াবহতা এবং সামাজিক সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। কর্তৃপক্ষের আশা, গ্রেপ্তারের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর জন্য কিছুটা স্বস্তি বয়ে আনবে।