মাথায় ইট ছুড়ে মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দেওয়া সাজিদের অবস্থা সংকটাপন্ন
রাজধানীর পূর্ব শেওড়াপাড়ায় পূর্বশত্রুতার জেরে মোটরসাইকেল আরোহী সাজিদ চৌধুরী ওরফে রাফি (২১) কে মাথায় ইট ছুড়ে মেরে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দেওয়া হয়। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত একটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। সাজিদের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
ঘটনার পর সাজিদকে প্রথমে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ডিএমসি) নিউরোসার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। তার মস্তিষ্কে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে। চেতনার মাত্রা গ্লাসগো কোমা স্কেলে ৭, যা স্বাভাবিক ১৫-এর তুলনায় অনেক কম।
হামলার বিবরণ
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি আগে থেকেই ওত পেতে ছিলেন। সাজিদ মোটরসাইকেল নিয়ে সামনে আসতেই তার মাথা লক্ষ্য করে ইট ছোড়া হয়। এতে তিনি মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে ছিটকে পড়েন। পরে হামলাকারীরা তাকে অটোরিকশায় তুলে কিছুদূর নিয়ে গিয়ে ফেলে রেখে যায়। সাজিদ অন্য একটি অটোরিকশায় বাড়ি ফেরেন এবং পরিবারকে বলেন, তাঁকে মেরেছে। এরপরই তিনি জ্ঞান হারান।
মামলা ও গ্রেপ্তার
এ ঘটনায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে কাফরুল থানায় মামলা করেছেন সাজিদের চাচা নুর হোসেন। মামলার চার আসামির মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. পারভেজ, আনোয়ার হোসেন বাবু ও মো. ফয়সাল ওরফে কালু। আমিন নামে এক আসামি পলাতক।
পুলিশ জানায়, এটি ছিনতাইয়ের ঘটনা নয়, বরং পূর্বশত্রুতার জেরে হামলা চালানো হয়েছে। দুই বছর আগে প্রধান অভিযুক্ত পারভেজ সাজিদদের বাসায় ভাড়া থাকতেন। এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ে সাজিদের আপত্তির কারণে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল বলে পুলিশের ধারণা।
মায়ের বেদনা
সাজিদের মা তানিয়া সিকদার দীর্ঘদিন ধরে দুবাইয়ে চাকরি করেন। ঈদুল আজহার ছুটিতে দেশে এসেছিলেন। ১২ জুন তার দুবাই ফেরার ফ্লাইট ছিল, কিন্তু তা আর হয়নি। তিনি বলেন, ‘অপারেশনের পর থেকে আমার ছেলের অবস্থা বেশি খারাপ হয়েছে। একবারও চোখ খোলেনি। ডাক্তাররা বলছে, মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে। ছেলের জ্ঞান না–ও ফিরতে পারে। আমি কী করব এখন?’
সাজিদের বাবা শামসুল চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে অস্থিতিশীল। প্রায় ১২ বছর ধরে তাঁরা আলাদা থাকেন। একমাত্র সন্তানকে ঘিরেই ছিল মায়ের সব স্বপ্ন।
আইসিইউর সামনে দাঁড়িয়ে তানিয়া সিকদার আবেদন জানান, ‘আপনারা দেখবেন, ওরা যেন ছাড়া না পায়। ওরা ছাড়া পেলে অন্য কোনো মায়ের সন্তানেরও এই অবস্থা হবে।’



