রাজধানীতে যুবক হত্যার পর লাশ খণ্ডবিখণ্ড: সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ে রুমমেট গ্রেপ্তার
রাজধানীতে এক যুবকের কাটা হাত ও পা উদ্ধারের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ সন্দেহভাজন এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার হওয়া ২১ বছর বয়সী শাহীন আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে তার রুমমেট ওবায়দুল্লাহকে হত্যা করে মরদেহ টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দিয়েছেন। মতিঝিল জোনের সহকারী কমিশনার হুসাইন মুহাম্মাদ ফারাবী জানিয়েছেন, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে শাহীনকে শনাক্ত করা হয় এবং তাকে আটক করা হয়।
ঘটনার বিবরণ ও তদন্তের অগ্রগতি
শাহীন আলম মতিঝিলের হীরাঝিল হোটেলের একজন কর্মচারী। তিনি এবং নিহত ওবায়দুল্লাহ একই ফ্ল্যাটে রুমমেট হিসেবে বসবাস করতেন। রাতে পুলিশ মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন, লাশের বাকি অংশ উদ্ধারের জন্য তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। শুক্রবার রাতে পল্টনের আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারের সামনে একটি কাটা পা উদ্ধার করে পুলিশ। শনিবার সকালে বায়তুল মোকাররমের সামনে থেকে দুটি হাত এবং পরে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে আরেকটি পা উদ্ধার করা হয়।
হাতের আঙ্গুলের ছাপ যাচাই করে পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, লাশের খণ্ডিত অংশগুলো ৩০ বছর বয়সী ওবায়দুল্লাহর। তিনি নরসিংদীর শিবপুরের বাসিন্দা এবং একটি হোমিও প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন। পুলিশের তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, স্কাউট ভবনের সামনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় একজন ব্যক্তি সাইকেলে চড়ে এসে কালো পলিথিনে কিছু ফেলে চলে যায়। ওই ভিডিও বিশ্লেষণের মাধ্যমে শাহীনকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতের স্বীকারোক্তি ও পুলিশের পদক্ষেপ
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহীন আলম জানান, নিহত ওবায়দুল্লাহ তার এবং তার পরিবারকে নানাভাবে কটূক্তিমূলক আচরণ করতেন। ব্যক্তিগত ক্ষোভের জেরে তিনি শুক্রবার রাতে ওবায়দুল্লাহকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে লাশ খণ্ডবিখণ্ড করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন। পুলিশ নিহতের লাশ টুকরো করতে ব্যবহৃত চাপাতি জব্দ করেছে এবং মামলার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
এই ঘটনায় পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ প্রশংসিত হয়েছে, তবে অপরাধের নৃশংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তদন্তে আরও তথ্য উন্মোচনের আশা করা হচ্ছে, যাতে বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত এগোতে পারে।
