রাউজানে প্রকাশ্যে যুবদল কর্মীকে গুলি করে হত্যা
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় একটি বাজারে প্রকাশ্যে যুবদলের এক কর্মীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। আজ বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের অলিমিয়াহাট বাজারে এ নৃশংস ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম মুহাম্মদ আবদুল মজিদ (৫০), যিনি অলিমিয়াহাট বাজার এলাকার বাসিন্দা এবং পূর্ব গুজরা ইউনিয়ন যুবদলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
স্থানীয় বাসিন্দা ও বিএনপির নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, সন্ধ্যায় বাজার থেকে হেঁটে বাড়ির দিকে রওনা হওয়ার সময় আবদুল মজিদের ওপর হামলা চালানো হয়। মুখোশ পরা একদল অস্ত্রধারী যুবক মোটরসাইকেলে করে এসে তাঁকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালায়। হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সরে পড়ে, যা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্থানীয় লোকজন মজিদকে উদ্ধার করে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র অনুযায়ী, তাঁর চোখের ওপরে, বুকে এবং কোমরে মোট তিনটি গুলি লাগে, যা মারাত্মক আঘাতের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
চিকিৎসা ও পুলিশি তদন্ত
রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) টিবলু কান্তি দে জানিয়েছেন, হাসপাতালে আনার আগেই আবদুল মজিদের মৃত্যু হয়েছে, যা ঘটনার গুরুত্ব বাড়িয়ে তুলেছে। অন্যদিকে, রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখনো কোনো সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
পূর্বের হামলা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
নিহত মজিদের স্ত্রী শাহনাজ বেগম দাবি করেন, এর আগেও তাঁর স্বামীর ওপর হামলা হয়েছিল, কিন্তু তখন তিনি বেঁচে যান। এবার তাঁকে সরাসরি হত্যা করা হয়েছে, যা পরিবারের জন্য গভীর শোকের কারণ হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ৫ জানুয়ারি একই বাজার থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে মুহাম্মদ জানে আলম (৪৮) নামের আরেক যুবদল নেতাকে একই পদ্ধতিতে মোটরসাইকেলে এসে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। ওই ঘটনার দেড় মাস পার হলেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ, যা স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ বাড়িয়ে তুলছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে রাউজানে মোট ২১টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, যার মধ্যে ১৫টি রাজনৈতিক–সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা হচ্ছে। এই সময়ে শতাধিক গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন সাড়ে তিন শতাধিক মানুষ, যা এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ
এই ঘটনা রাউজানে অপরাধ ও সহিংসতার একটি ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তাহীনতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কথা উল্লেখ করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পুলিশের তদন্ত দ্রুতগতি না পাওয়ায় অনেকেই ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন। এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানানো হচ্ছে।
