ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে পূর্ব শত্রুতার জেরে হায়দার মুন্সি নামে এক যুবকের ওপর নৃশংস হামলার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিপক্ষরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তার হাত-পা প্রায় বিচ্ছিন্ন করে দেয়। হামলায় তার ছোট ভাই সুজন মুন্সিও গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার সদর এলাকার ফাযিলখাঁর ডাঙ্গী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত দুই ভাই মৃত ধলা মুন্সির ছেলে। স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, হায়দার মুন্সির অবস্থা আশঙ্কাজনক।
পরিবারের অভিযোগ ও ঘটনার পটভূমি
পরিবারের অভিযোগ, একই গ্রামের ইসলাম মণ্ডলের ছেলে কালাম মণ্ডলের সঙ্গে হায়দারের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। প্রায় তিন বছর আগে একটি মামলায় কালামের পক্ষে সাক্ষ্য না দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। সেই ঘটনার জেরে পরিকল্পিতভাবে হায়দারকে ডেকে নিয়ে কালামের নেতৃত্বে ৫-৬ জন ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। আহত সুজন মুন্সি বলেন, তিন বছর আগে আমার ভাইয়ের সামনে আমাদের গ্রামের রিপন খাঁ ও কালাম মণ্ডলের মধ্যে একটি মারামারির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় মামলায় আমার ভাই হায়দার মুন্সি সাক্ষী দেয়ার জন্য আসামির কিছু হয়নি। ওই সময় থেকেই কালামের ক্ষোভ-আমার ভাই সাক্ষী দিল কেন। সেই কারণে আজকের আমার ভাইকে ডেকে নিয়ে যায়। আমি জানতে পেরে দৌঁড়ে গেলে প্রথমে আমাকে রামদা দিয়ে কোপ দেয়। এরপর আমার ভাইকে কোপানো শুরু করে। আমার ভাই দৌঁড়ে একটি বাড়িতে গিয়ে পালালেও সেখান থেকে বের করে কুপিয়ে হাত-পা কেটে ফেলেছে।
চিকিৎসকের বক্তব্য
রাতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ট্রমা বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো. রশিদ জানান, আহতদের মধ্যে হায়দার মুন্সির অবস্থা সংকটাপন্ন। তার দুটি হাত ও একটি পায়ে গুরুতর জখম রয়েছে। তার মধ্যে একটি হাত ও একটি পা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন বলা যায়। তার প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দ্রুতই উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে।
পুলিশের অবস্থান
চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, স্থানীয় কালাম নামে এক ব্যক্তির সাথে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে। এমন নৃশংস ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যাই এবং জড়িতদের ধরতে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।



