রাজধানীর আশকোনা হজ ক্যাম্প থেকে চুরি হওয়া সাড়ে ১৭ হাজার সৌদি রিয়াল ও ৯০ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মূলহোতা হাবিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার (১ মে) মতলব দক্ষিণ থানার ওসি হাফিজুর রহমান মানিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার ও উদ্ধার অভিযান
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে যৌথ অভিযানে হাবিবুর রহমানকে রাজধানীর খিলক্ষেতের একটি আবাসিক ভবন থেকে আটক করা হয়। মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশ জানায়, চুরির ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের স্পেশাল টিম কাজ শুরু করে। ঘটনার দিন বিকেলে ডিআইজি, সিটি এসবি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হাবিবুরকে গ্রেপ্তারে চাঁদপুরে অভিযান চালানো হয়।
এক পর্যায়ে পুলিশের কাছে তথ্য আসে হাবিবুর ইতোমধ্যে মতলব থেকে বেড়িবাঁধ হয়ে দাউদকান্দি, কুমিল্লার পথে রওনা হয়েছে। পরে মতলব থানা পুলিশের একটি দল তাকে অনুসরণ করতে থাকে। অভিযানিক দলটি হাবিবুর রহমানকে অনুসরণ করতে করতে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া হয়ে ডেমরার সারুলিয়া পাড় হয়ে ৩শ ফিট অতিক্রম করে খিলক্ষেত এলাকায় পৌঁছে। সর্বশেষ বিশেষ পুলিশ সুপার সিটি এসবি (উত্তর) মো. রেজাউল করিমের টিমের সঙ্গে যৌথ অভিযানে তাকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
মূল মাস্টারমাইন্ডের বাসায় অভিযান
পুলিশের ভাষ্য, একই রাতে চুরির ঘটনার মূল মাস্টারমাইন্ড আব্দুল মান্নানের দুটি বাসায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে আব্দুল মান্নানের বড় মেয়ে মুক্তার বাসায় অভিযান চালিয়ে চুরি হওয়া ৫০০ রিয়ালের ৩৫টি নোট অর্থাৎ ১৭ হাজার ৫০০ সৌদি রিয়াল উদ্ধার করে পুলিশ।
অভিযুক্তরা গত রোববার চুরি করা ৩ হাজার ৫০০ সৌদি রিয়াল মানি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে ভাঙিয়ে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা তুলে নেয়। যার মধ্যে ৯০ হাজার টাকা আব্দুল মান্নানের দ্বিতীয় স্ত্রীর বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের বক্তব্য
মতলব দক্ষিণ থানার ওসি হাফিজুর রহমান মানিক বলেন, চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় রহস্য উদঘাটন ও অন্যতম আসামিকে গ্রেপ্তার করে বিমান বন্দর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই অভিযানটি আমাদের জন্য বড় অর্জন। এই প্রথম ঢাকার কোনো ঘটনায় মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশের সহায়তা উম্মোচিত হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
উল্লেখ্য, গত ২২ এপ্রিল রাজধানীর আশকোনা হজ ক্যাম্প থেকে হজ যাত্রী ইমরান হোসেনের কাছ থেকে ২২ হাজার রিয়াল চুরি হয়। ছদ্মবেশী চোর ঢুকে চুরির ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় ভুক্তভোগী মো. ইমান আলীর ছেলে মো. সাইয়ন আহমেদ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা চোরচক্রের বিরুদ্ধে মামলা করেন। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানায় পুলিশ।
এই ঘটনায় ভাইরাল হওয়া হজ ক্যাম্পের ধারণ করা একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, পাজামা-পাঞ্জাবি পরিহিত ছদ্মবেশী এক ব্যক্তি হজ ক্যাম্পের ভেতরে ঢুকে পড়ে। এসময় হজযাত্রী মো. ইমরান হোসেন তার ব্যবহৃত একটি হাত ব্যাগ ভুলক্রমে বাথরুমে রেখে মসজিদে ঢুকে পড়েন। এসময় ছদ্মবেশী চোর বাথরুমে পড়ে থাকা ব্যাগটি খুলে তা থেকে দেশি-বিদেশি মুদ্রা নিয়ে ব্যাগটি বাথরুমে ঝুলিয়ে রেখে নিরাপত্তা কর্মীদের সামনে দিয়ে পালিয়ে যান।



