প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশে জঙ্গি তৎপরতা বিদ্যমান এবং সরকার তা মোকাবিলা করে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার চেষ্টা করছে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
জঙ্গি অস্তিত্ব স্বীকার
এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, সরকারের কাছে কত তথ্য আছে তা বলা যাবে না, এটি সংবেদনশীল ও গোপন তথ্য। তবে সরকার যতটুকু তথ্য জানিয়েছে, তা সত্য। বাংলাদেশে জঙ্গি আছে। তিনি আরও বলেন, আগের আওয়ামী লীগ সরকার জঙ্গি সমস্যাকে অতিরঞ্জিত করে ক্ষমতায় থাকার বয়ান হিসেবে ব্যবহার করেছিল, অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কেউ কেউ বলেছেন দেশে কোনো জঙ্গি নেই। এই দুটোই চরম পর্যায়ের এবং ভুল। বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ ছিল এবং আছে।
ঝুঁকি ও মোকাবিলা
জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমান সতর্কতা কিছুটা ঝুঁকি তৈরি করেছে, কারণ অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে জঙ্গি প্রবণতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা বেশি সংগঠিত হওয়ার ও প্রকাশ্যে আসার সুযোগ পেয়েছে। তবে সরকার এই ঝুঁকি মোকাবিলা করবে। তিনি জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেন, ভয়ের কিছু নেই, কিন্তু সমস্যা স্বীকার না করলে তার চিকিৎসা সম্ভব নয়। সরকার জঙ্গিবাদকে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার চেষ্টা করবে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কারাগার থেকে জঙ্গিরা বেরিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কিছু মানুষ বেরিয়েছিলেন এবং সরকার নিয়মিতভাবে এগুলো মোকাবিলা করবে। জামিনে থাকা জঙ্গিদের বিষয়ে তিনি জানান, যদি বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায় যে তারা একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাহলে জামিন বাতিলের জন্য সরকার জোরালো আপিল করবে। আদালতই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে, তবে সরকার জামিন বাতিলের পক্ষে শক্ত অবস্থান নেবে।
জঙ্গি শব্দের অপব্যবহার এড়াতে সতর্কতা
উপদেষ্টা সতর্ক করে বলেন, জঙ্গি শব্দটিকে সাধারণীকরণ করা উচিত নয়। অতীতে বাড়ি ঘিরে বোমা বানানোর অভিযোগ এনে র্যাবের ক্রসফায়ারে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। তাই এই শব্দ ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে।
গণ-অভ্যুত্থানের পর কেউ কেউ সংবিধান স্থগিত করে শরিয়াহভিত্তিক রাষ্ট্র কায়েমের স্বপ্ন দেখেছিলেন, কিন্তু বাংলাদেশ উদার গণতান্ত্রিক পথে গেছে। তিনি বিশ্লেষক হিসেবে অনুমান করেন, দেশের ভেতরে ও বাইরে এমন ব্যক্তি আছে যারা এই পরিস্থিতি পছন্দ করেন না এবং তারা জঙ্গিদের উৎসাহিত করতে পারে।



