কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কসহ ১০ জন আহত
কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলায় দুর্বৃত্তদের এলোপাতাড়ি গুলিতে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রবিউল ইসলামসহ অন্তত ১০ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। সোমবার (২০ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টায় উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের মাজদিয়া এলাকায় এ হামলা ঘটে। আহতদের কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে রবিউল ইসলামের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার বিবরণ
এলাকাবাসীর বর্ণনা অনুযায়ী, রাতে এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় রবিউল ইসলাম বাড়ির সামনে হাঁটাহাঁটি করছিলেন। এ সময় ১০-১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল হঠাৎ তার ওপর হামলা চালায়। রবিউলের চিৎকারে তার বাবা-মা ও আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাদেরকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত নারী-পুরুষসহ ১০ জন গুলিবিদ্ধ হন। পরে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
আহতদের তালিকা
আহতরা হলেন:
- রবিউল ইসলাম (৩৫ বছর, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক)
- হাফেজ প্রামানিক (৭২ বছর, রবিউলের পিতা)
- সোহেল রানা (৪৫ বছর)
- তমা খাতুন (২৬ বছর, সোহেল রানার স্ত্রী)
- কামরুল ইসলাম (৪০ বছর)
- মুন্নি খাতুন (২৪ বছর)
- রুনা খাতুন (২৫ বছর)
- মিতা খাতুন (৩০ বছর)
- তৌহিদুল ইসলাম (৩৩ বছর)
- মেরিনন খাতুন (২৬ বছর, তৌহিদুল ইসলামের স্ত্রী)
হামলার বিষয়ে জানতে রবিউল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। হাসপাতালে উপস্থিত রবিউলের মামা লিয়াকত মেম্বার জানান, হামলার কারণ সম্পর্কে তারা কিছুই জানেন না এবং কারা এই হামলা চালিয়েছে তাও অজানা।
পুলিশের প্রতিক্রিয়া ও তদন্ত
দৌলতপুর থানার ওসি আরিফুর রহমান জানান, রাতে কয়েক রাউন্ড গুলির ঘটনা ঘটেছে, যাতে ১০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রবিউল ইসলামের অবস্থা গুরুতর। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে। তবে হামলার কারণ এখনো জানা যায়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত বিচার দাবি করেছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তদন্তের অংশ হিসেবে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ ও সাক্ষাৎকার সংগ্রহ করা হচ্ছে।



