যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। শুক্রবার ওয়াশিংটন থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত সম্পদ জব্দ এবং তাদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ নিষিদ্ধ থাকবে।
নিষেধাজ্ঞার তালিকায় কারা?
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছেন সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তা। তারা হলেন: র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ানের (র্যাব) সাবেক মহাপরিচালক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম, র্যাবের বর্তমান মহাপরিচালক মো. খুরশীদ হোসেন, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক মো. জাবেদ পাটোয়ারী, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান মিয়া, পুলিশের বর্তমান মহাপরিদর্শক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক মো. বেনজীর আহমেদ।
নিষেধাজ্ঞার কারণ কী?
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট বলেছে, এই সাত কর্মকর্তা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত। বিশেষ করে, তারা ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় এবং তার পরবর্তী সময়ে সরকারি সমালোচক, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়েছেন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের প্রতি অঙ্গীকারের অংশ।
বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশ সরকার যুক্তরাষ্ট্রের এই নিষেধাজ্ঞার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা ভিত্তিহীন এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের শামিল। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ আইনের শাসন ও মানবাধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
মানবাধিকার সংগঠনগুলো যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের পরিচালক মিনা বেন্নামি বলেছেন, এই নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বার্তা।



