সাভার উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) হিসাবরক্ষক কাজী আসাদুল হায়দারের বিরুদ্ধে নানা ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তিনি নামসর্বস্ব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় দারুল এহসান থেকে টাকার বিনিময়ে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ কিনে চাকরিতে প্রবেশ করেন। পরে সাভার উপজেলায় পোস্টিং নিয়েই স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন।
অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত
এসব বিষয় সাভার দুর্নীতি প্রতিরোধ নাগরিক কমিটির নজরে আসলে কমিটির সভাপতি মো. ইউনুচ মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ চান মিয়া সংশ্লিষ্ট অধিদফতরে লিখিত অভিযোগ দেন। এর আলোকে তদন্ত কমিটি গঠন করে এলজিইডি। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (মান নিয়ন্ত্রণ) মো. ওয়াহিদুজ্জামানকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন ওয়াহিদুজ্জামান। তদন্ত প্রতিবেদনে অনিয়ম-দুর্নীতির সত্যতা পাওয়ায় তাকে অন্যত্র বদলি করা হয়।
ঘুষ দিয়ে পুনরায় ফিরে আসা
পরবর্তীতে কয়েক লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে তিন মাসের মধ্যেই আবার সাভার উপজেলায় ফিরে আসেন কাজী আসাদুল। পুনরায় সাভার উপজেলায় যোগদান করায় ক্ষুব্ধ হয়ে এবার উপজেলার কয়েকজন ঠিকাদার তার বিরুদ্ধে অধিদফতরে লিখিত অভিযোগ দেন। তাদের অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, দুর্নীতি করে সাভার উপজেলার তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের ৭.৫ শতকের জমির ওপর দুটি প্লট, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে পাথালিয়া ইউনিয়নে ৩৮.৫০ শতক জায়গাসহ নামে-বেনামে আরও কয়েকটি ফ্ল্যাট কিনেছেন কাজী আসাদুল। এ ছাড়া এনাম মেডিক্যালের পাশে ১৯৯০ স্কয়ার ফিটের ৯২ লাখ টাকার ফ্ল্যাটের মালিক হয়েছেন। তার বিভিন্ন ব্যাংকে একাধিক অ্যাকাউন্টে ৯৫ লাখ টাকা জমা আছে।
অনৈতিক সম্পর্ক ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অনিয়ম-দুর্নীতির পাশাপাশি এলজিইডির আওতাধীন পুকুর ও খাল খনন প্রকল্পে এলকেএসের অধীন কার্য-সহকারী পদে ধামরাই উপজেলায় কর্মরত দুজন নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়েছেন। কাজী আসাদুলের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ দেখে অধিকতর অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল। সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আলী আক্তারের সময়ে প্রভাব ঘাটিয়ে তিনি হিসাব সহকারী হতে কোনও নিয়ম না মেনে ১৫ লাখ টাকা প্রধান প্রকৌশলীর দফতরে দিয়েছেন। দারুল এহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্রয়কৃত সার্টিফিকেট নিয়ে হিসাবরক্ষক পদে প্রমোশন নিয়েছেন। এ ছাড়া কর্মস্থলে পদোন্নতির পর যোগ দেওয়ার জন্য প্রধান কার্যালয়ে আরও ১২ লাখ টাকা ঘুষ দেন।
দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে
অভিযোগ রয়েছে কাজী আসাদুল সহকারী হিসাবরক্ষক থাকাকালীন কোনও হিসাব রক্ষক সাভারের অফিসে শান্তিমতো চাকরি করতে পারেননি। তার নিয়ন্ত্রিত এলাকার প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের বদলি হতে বাধ্য করতেন। তিনি একই কর্মস্থলে গত ১৯ বছর ধরে চাকরি করছেন।
এসব বিষয়ে জানতে হিসাবরক্ষক কাজী আসাদুল হায়দারের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করেননি। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে এ বিষয়ে জানতে চেয়ে মেসেজ দিলেও কোনও জবাব দেননি।



