আর্জেন্টিনার সাবেক ফরোয়ার্ড আনহেল দি মারিয়া বর্তমানে নিজ শহর রোজারিওতে পরিবার নিয়ে সময় কাটাচ্ছেন। ২০২৪ সালে কোপা আমেরিকার শিরোপা জেতার পর জাতীয় দলকে বিদায় জানানো এই তারকা এখনও ক্লাব ফুটবলে সক্রিয়। ২০২৫ সালে তিনি শৈশবের ক্লাব রোজারিও সেন্ট্রালে যোগ দেন।
শৈশব ও ফুটবল যাত্রা
১৯৮৮ সালে রোজারিওতে জন্ম নেওয়া দি মারিয়ার বয়স এখন ৩৮ বছর। মাত্র চার বছর বয়সে এক চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে ফুটবল খেলতে পাঠানো হয়। দি মারিয়ার মা তাকে অতিরিক্ত দৌড়ানোর কারণে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে চিকিৎসক বলেন, ‘কী করবেন মানে! ছেলেকে ফুটবল খেলতে দিন।’ এরপরই তাকে রোজারিও সেন্ট্রাল একাডেমিতে ভর্তি করা হয়।
প্রথম দিকে হতাশ হয়ে দুইবার ফুটবল ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন দি মারিয়া। ১৩ বছর ক্লাবটির বয়সভিত্তিক ও যুবদলে খেলার পর ২০০৫ সালে মূল দলের হয়ে তার অভিষেক হয়।
ইউরোপে সাফল্য ও জাতীয় দল
২০০৭ সালে ইউরোপে পাড়ি জমান দি মারিয়া। পর্তুগিজ ক্লাব বেনফিকায় নাম লেখানোর পর রিয়াল মাদ্রিদ, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, পিএসজি, জুভেন্টাস এবং আবার বেনফিকায় খেলেছেন। ২০০৮ সালে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে অভিষেক হয়। দেশের হয়ে ১৪৫ ম্যাচে ৩১টি গোল করেন। তার অর্জনের মধ্যে রয়েছে অলিম্পিক ফুটবলের স্বর্ণপদক, কোপা আমেরিকা ফাইনাল, ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২২, ফিনালিসিমা ও কোপা আমেরিকার শিরোপা।
বর্তমান জীবন ও বিশ্বকাপ
ইউরোপের ১৮ বছরের ক্যারিয়ার শেষে দি মারিয়া এখন নিজ শহরে ফিরে এসেছেন। ২০১১ সালে জর্জেলিনা কারদোসোওকে বিয়ে করার পর দুই মেয়ে ও পরিবার নিয়ে তিনি রোজারিওতে স্থায়ী হয়েছেন। খেলাধুলার বাইরে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, বাইরে ঘোরা, রেস্তোরাঁয় খাওয়া ও পুলে সাঁতার কাটা তার পছন্দ।
বিশ্বকাপ উপলক্ষে একটি খেলাধুলা বিষয়ক প্রতিষ্ঠানের প্রচারণায় নিজের জার্সিতে স্বাক্ষর করতে দেখা গেছে দি মারিয়াকে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘সুযোগ পেলে মাঠে বসে দেশের ফুটবল বিশ্বকাপ উপভোগ করতে করব।’ ভক্তরা আশা করতে পারেন, আর্জেন্টিনার পরবর্তী কোনো ম্যাচে দি মারিয়াকে গ্যালারিতে দেখা যেতে পারে।



