বিএনপি সরকারের অধ্যাদেশ বাতিল ও প্রশাসক নিয়োগে সুজনের তীব্র সমালোচনা
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বিএনপি সরকারের অধ্যাদেশ বাতিল ও প্রশাসক নিয়োগের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, সরকার অতীত থেকে শিক্ষা নেয়নি এবং এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।
গোলটেবিল আলোচনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে 'মানবাধিকার সুরক্ষা ও স্বাধীন বিচার বিভাগ-সম্পর্কিত অধ্যাদেশগুলোর বিষয়ে নাগরিক ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ' শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বদিউল আলম মজুমদার বক্তব্য দেন। এইচআরএসএস আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, 'স্বচ্ছতা-জবাবদিহি ও অধিকারের সুরক্ষার আইনগুলো বিএনপি সরকার কেন বাতিল করছে, তা বুঝতে পারছি না।' তিনি প্রশ্ন তোলেন, এটি কি দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার 'অভিশাপ'?
বিচার বিভাগীয় অধ্যাদেশ রহিতকরণে বিস্ময়
বদিউল আলম মজুমদার বলেন, 'অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে প্রণীত সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যায় ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যায় রহিত করা হলো। আমাদের বোধগম্য হচ্ছে না কেন বিএনপি এ কাজটা করল?' তিনি ২০১৮ সালের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে যোগ করেন, বিএনপির নেতা-কর্মীরা উচ্চ আদালতে জামিনের জন্য ধরনা দিয়েছিলেন, কিন্তু অনেকেই প্রতিকার পায়নি।
স্থানীয় সরকারে প্রশাসক নিয়োগের তীব্র নিন্দা
স্থানীয় সরকারে প্রশাসক বসানোকে আইনসিদ্ধ করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের চারটি অধ্যাদেশ জারির কথা উল্লেখ করে বদিউল আলম বলেন, 'বিএনপি ৩১ দফা, নির্বাচনী ইশতেহার ও সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করে প্রশাসক নিয়োগ করছে।' তিনি বলেন, বিষয়টি উচ্চ আদালতের রায়েরও লঙ্ঘন এবং এর কারণ বোধগম্য নয়।
ভবিষ্যতের জন্য শঙ্কা প্রকাশ
বদিউল আলম মজুমদার সতর্ক করে দেন, 'বিএনপি শপথপ্রাপ্ত বিচারপতিদের আবারও নিয়ে আসতে চাইলে তা সবার জন্য অশনিসংকেত। তারা এ পথে হাঁটলে আমরা কেউ নিরাপদ থাকব না।' তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এসব সিদ্ধান্তের পরিণতি নাগরিক ও ক্ষমতাসীনদের জন্য মঙ্গলজনক হবে না।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তার অংশগ্রহণ
অনুষ্ঠানের সূচনা ও সমাপনী বক্তব্য দেন এইচআরএসএসের চেয়ারম্যান শাহজাদা আল আমীন কবির। সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, মাসুদ কামাল, অধিকারের পরিচালক এ এস এম নাসির উদ্দিন, জি-নাইনের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির ও ইমরান সিদ্দিক, জাতীয় নাগরিক পার্টির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সদস্য দীপায়ন খিসা, আওয়ামী লীগ শাসনামলে গুমের শিকার মোহন মিয়ার বাবা জামশেদ মিয়া এবং 'জুলাই যোদ্ধা' আহমেদ সামরানও বক্তব্য দেন।



