পত্রিকার প্রচারসংখ্যা নিয়ে অসত্য তথ্য ও প্রতারণার অভিযোগ তথ্যমন্ত্রীর
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন অভিযোগ করেছেন যে, ফাইল ছবিদৈনিক পত্রিকার প্রচারসংখ্যা নিয়ে অসত্য তথ্য দেওয়া হচ্ছে এবং এ ব্যাপারে সমষ্টিগতভাবে প্রতারণা চলছে। তিনি বলেন, ‘অনেকে এটা না দেখার ভান করছেন। আর মালিকপক্ষের কথা কিছু বললাম না।’
অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্য
রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার ‘বাংলাদেশ রিফর্ম ট্র্যাকার ও গণমাধ্যমের প্রাসঙ্গিকতা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ ও ইআরএফ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ এবং প্রথম আলোর হেড অব অনলাইন শওকত হোসেন। অনুষ্ঠানে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম ও ইআরএফের সমঝোতা স্মারক সই হয়, যা সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়ে সরকারের সংস্কার কার্যক্রম নজরদারি করবে।
গণমাধ্যম সংস্কার ও সাংবাদিক সুরক্ষার উদ্যোগ
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সংস্কার সব সময় ভালো কিছু দেয়। আর আমরা সে পথেই এগোচ্ছি। আমরা যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, সেগুলো নিয়ে কাজ করব।’ তিনি জানান, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনকে ব্রিটিশ আদলে পুনর্গঠনের চিন্তা চলছে।
তিনি আরও বলেন, ‘হত্যা, মিথ্যা মামলা, গুমসহ সব ধরনের নির্যাতিত সাংবাদিকেরা যেন প্রতিকার পান, সে জন্য একটা কাঠামো করতে চাচ্ছি। অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের ভাতা দেওয়ার চিন্তাও রয়েছে।’ গণমাধ্যমের সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে বিজ্ঞাপন নীতিমালা তৈরির কাজও বিবেচনাধীন বলে জানান তিনি।
সার্কুলেশন নিয়ে মিথ্যা তথ্য বন্ধের আহ্বান
তথ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, সার্কুলেশন নিয়ে মিথ্যা তথ্য ও সামষ্টিক প্রতারণা বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, ‘বড় বড় অপরাধ করার জন্য বয়ান তৈরি করা হচ্ছে। বয়ানের কারণে অপরাধ করে পার পেয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের বড় বড় রাষ্ট্রনায়কেরা গণমাধ্যম ও ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যম কাজে লাগিয়ে অন্য রকম পরিবেশ তৈরি করেছেন।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘যে সময় তথ্য মন্ত্রণালয় জন্ম নিয়েছিল তখনকার তথ্যের সংজ্ঞা আর এখনকার তথ্যের সংজ্ঞার মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য।’
সরকারের সমালোচনা ও শিক্ষা গ্রহণ
সরকারের ভুল ধরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের সর্বোচ্চ সমালোচনা বা অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করুন। সরকার এতে উপকৃত হবে। তবে সরকার এসেছে অল্প কিছুদিন। অনেক প্রশ্নের জবাব দেওয়ার মতো এখনো পরিপক্বতা আসেনি।’
আগের সরকার থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এর আগে আমরাও বারবার ক্ষমতায় ছিলাম। ভুল এবং প্রশংসা—দুটিই আমাদের আছে। খারাপ কাজ করলে কতটা নির্মম এবং অপমানজনক হতে পারে, তা ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান আমাদের দেখিয়েছে। তা আমাদের চিন্তায় রয়েছে।’
ডিএফপি ও অন্যান্য বক্তাদের মতামত
পত্রিকার প্রচারসংখ্যা প্রকাশ করে চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর (ডিএফপি)। ডিএফপিকে দুর্নীতির আখড়া বলে মন্তব্য করেন একজন সাংবাদিক। জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ডিএফপি নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না। আশা করছি কয়েকটি বিষয় ঠিক করে দিলেই এগুলো দূর হয়ে যাবে।’
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘কেবল অর্থনৈতিক নয়, সামগ্রিক কাঠামোগত উন্নয়নের জন্যও সংস্কার অপরিহার্য।’ তিনি স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে তাজউদ্দীন আহমদ ও প্রয়াত অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের সংস্কার উদ্যোগের কথা স্মরণ করেন।
নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর বলেন, ‘দুই ধরনের সাংবাদিকতা চলছে। একটি হচ্ছে লিপ্ততার, আরেকটি নির্লিপ্ততার। আমাদের বেছে নিতে হবে লিপ্ততার সাংবাদিকতা।’ ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন বাস্তবায়ন না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন।



