বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্য: অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ ও মানবাধিকার কমিশন
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রণীত ১৩৩টি অধ্যাদেশের বেশিরভাগই বিএনপি সরকার গ্রহণ করতে পারবে বলে উল্লেখ করেছেন। তবে, তিনি বলেছেন যে কিছু অধ্যাদেশ আলোচনার দাবি রাখে এবং সরকার ও বিরোধী দল মিলে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে। আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫: নতুন সংসদের কাছে প্রত্যাশা’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এ কথা বলেন। সংলাপের আয়োজন করে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম নামের একটি সংগঠন।
অধ্যাদেশ পাসের সময়সীমা ও চ্যালেঞ্জ
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সংক্ষিপ্ত ৩০ দিনের ভেতরে কতটা আমরা এই আইন পাস করাতে পারব ঠিক বলতে পারছি না। কিন্তু আমি অ্যাশিওর (আশ্বস্ত) করতে পারি, আমরা অধিকাংশই ধারণ করব। যেগুলো হয়তো আমরা অ্যাজ ইট ইজ (যেভাবে আছে সেভাবেই) গ্রহণ করতে পারব, সেটা ওইভাবেই আমরা আইন করে আগে নিয়ে আসব।…আর যেগুলো অ্যামেন্ডমেন্ট (সংশোধন) সহকারে আমাদের করতে হবে, সেটার জন্য একটু সময় লাগবে।’
আগামীকাল বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এই অধিবেশনে ৩০ দিনের মধ্যে অধ্যাদেশগুলো সংসদে বিল আকারে তোলার কথা থাকলেও সরকারি ছুটিসহ অন্যান্য বিষয়ের কারণে সময় পাওয়া যাবে ১৫ দিন। প্রতিদিন আটটি অধ্যাদেশ বিল আকারে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে উত্থাপন করা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।
মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশের গুরুত্ব
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এই ৩০ দিনের সীমাবদ্ধতার ভেতরে যেটা সম্ভব সেটা আমরা করব। তার মধ্যে অবশ্যই মানবাধিকার কমিশনের এ অধ্যাদেশটা থাকবে আশা করি।’ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের বিষয়টি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনেও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যে মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ হয়েছে তার প্রায় সব বিষয়েই তাঁরা একমত। তবে কিছু বিষয়ে সংশোধন আনতে হতে পারে।
জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংস্কার
জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা একটা নিয়মনীতি, সাংবিধানিক ধারার মধ্যে থাকতে চাই। জোর করে চাপিয়ে দেওয়া কিছু জাতির জন্য ভালো ফল বয়ে আনে না।’ সে কারণে আরোপিত কোনো আদেশ, যেগুলো জবরদস্তিমূলকভাবে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে সেগুলো মেনে নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।
এ সময় বিএনপির সংসদ সদস্যদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘যদি গণভোটের রায় আমরা মান্য করি, সম্মান দিই, সেটা তো সংসদে আসতে হবে। এসে আমরা সংসদে আলোচনা করব এবং সবাই যদি সম্মত হয় সংবিধানে গৃহীত হয় তখন সেটা শপথ নেওয়ার প্রশ্ন আসবে। কোন ফর্মে নেওয়া হবে, কে শপথ গ্রহণ করাবেন তখন সেভাবে যাবে। এখন জবরদস্তি যদি আমাদের…কালকে বলা হয় যে আপনারা শপথ গ্রহণ করুন। সেটা তো হতে পারে না। এটা তো জবরদস্তি।’
জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি প্রসঙ্গ
জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি নিয়েও সংলাপে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের ময়দানে যারা আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে, তাদের বিরুদ্ধে যদি আমার কোনো কর্মকাণ্ড হিউম্যান রাইটস ভায়োলেশন অন্তর্ভুক্ত হয়, সেটা তো এভরিথিং ইজ ফেয়ার ইন লাভ অ্যান্ড ওয়ার। তো সেই জন্য সেই ইনডেমনিটিকে আমরা সমর্থন করেছি। এখন যদি বলা হয় যে তাদের মামলা করতে দিতে হবে, ইত্যাদি দিতে হবে তাহলে মুক্তিযোদ্ধারা রাজাকারকে হত্যা করার দায়ে এখন মামলা করা যাবে—অনেকটা সে রকম।’
এই সংলাপে বিএনপি নেতার বক্তব্য রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ও মানবাধিকার ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সূচনা করেছে, যা নতুন সংসদের কার্যক্রমকে প্রভাবিত করতে পারে।
