জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে চোখ হারানো মাহবুব আলম সংসদ অধিবেশনে আমন্ত্রিত
চোখ হারানো মাহবুব আলম সংসদ অধিবেশনে আমন্ত্রিত

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে চোখ হারানো মাহবুব আলম সংসদ অধিবেশনে আমন্ত্রিত

২০২৪ সালের ১৮ জুলাই কোটা সংস্কারের দাবিতে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া মোড়ে পুলিশের ছররা গুলিতে দুই চোখের আলো চিরতরে হারিয়েছিলেন মাহবুব আলম (২৯)। সেই মাহবুব আলম এখন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অংশ নিতে চলেছেন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া এই অধিবেশনে তিনি সংসদ সদস্যদের আলোচনা শুনবেন, যা তাঁর জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।

মাহবুবের আবেগঘন প্রতিক্রিয়া

আমন্ত্রণ পেয়ে উচ্ছ্বসিত মাহবুব আলম বুধবার সন্ধ্যায় বলেন, 'চোখে না দেখলেও সংসদের আলোচনা নিজের কানে তো শুনতে পাব! তবে চোখে দেখতে পেলে আরও ভালো লাগত।' তাঁর একটাই চাওয়া—বাংলাদেশ ভালো থাকুক এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে তাঁর মতো যারা চোখ হারিয়ে অসহায় হয়েছেন, দেশের মানুষ ও সরকার যেন তাদের পাশে দাঁড়ায়।

দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশের লাঠিপেটা ও এলোপাতাড়ি ছররা গুলি ছোড়ার ঘটনায় মাহবুব আলম গুরুতর আহত হন। ছোট শিক্ষার্থীদের ভিড় থেকে সরিয়ে নিতে গিয়ে পুলিশের গুলি সরাসরি তাঁর মাথা ও চোখে বিদ্ধ হয়। এরপর রাজধানীর চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট, ভারতের চেন্নাই ও থাইল্যান্ডে চিকিৎসা করালেও তাঁর চোখের আলো আর ফেরেনি।

চিকিৎসা ও শারীরিক অবস্থা

মাহবুব আলমের মাথার বাঁ পাশে এখনো ৩২টি এবং চোখের ভেতরে ৯টি ছররা গুলি রয়ে গেছে। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর চোখের নার্ভ ছিঁড়ে গেছে, পর্দা ফেটে গেছে এবং গুলি মাথার হাড় ভেদ করে ভেতরে ঢুকে যাওয়ায় উন্নত চিকিৎসাতেও সুফল পাওয়ার আশা ক্ষীণ। চোখ হারানোর পর থেকে তিনি একা চলাফেরা করতে পারেন না এবং সব সময় অন্যের সহায়তার প্রয়োজন হয়। এই শারীরিক ও মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যেই তাঁর স্ত্রীও তাঁকে ছেড়ে গেছেন।

সরকারি আমন্ত্রণ ও ব্যবস্থা

সরকারের পক্ষ থেকে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মাহবুব আলমকে সংসদ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। বুধবার জেলা প্রশাসনের একটি গাড়িতে করে মাহবুব ও তাঁর মা হালিমা বেগমকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছে। অধিবেশন শেষে তাঁদের আবার নারায়ণগঞ্জের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে। এই উদ্যোগটি মাহবুবের জন্য সামাজিক স্বীকৃতি ও সমর্থনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।