সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম আজ জাতীয় সংসদে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে একটি সফল গণঅভ্যুত্থান সম্পন্ন হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, আজকের এই পার্লামেন্ট কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তির করুণার দান নয়, বরং এটি জনগণের পার্লামেন্ট।
১৭ বছরের সংগ্রাম ও ত্যাগ
মন্ত্রী বলেন, ‘১৭ বছরে আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন, ১ হাজার ৪০০ জন শহীদ হয়েছেন। আমরাও জীবন দেওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলাম।’ তিনি রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে আমি ১৯৩টি মামলার শিকার হয়েছি, ৯ বার জেলে গিয়েছি এবং ৯৭ দিন রিমান্ডে ছিলাম। তিন দিন গুমও ছিলাম। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে কাজ করেছি।’
বিরোধী দলের জন্য কর্মশালার প্রস্তাব
সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুধু সরকারি দলের নয়, বরং পুরো সংসদের নেতা হিসেবে উল্লেখ করে সেতুমন্ত্রী বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের সংসদীয় কার্যক্রমে আরও দক্ষ ও পরিপক্ক করে তুলতে প্রধানমন্ত্রীর সান্নিধ্য ও বিশেষ কর্মশালার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, ‘সংসদ নেতা আমাদের প্রতিনিয়ত শেখাচ্ছেন, দিক-নির্দেশনা দিচ্ছেন। তার নেতৃত্বে আমরা পরিপক্ক হচ্ছি। কিন্তু, তিনি যেহেতু সংসদ নেতা, তাই তিনি পুরো সংসদেরই নেতা। এটি শুধু সরকারি দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে পার্লামেন্ট মহিমান্বিত হবে না। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা কোন বিধিতে কী বলতে হয় বা কোন ইস্যুতে সোচ্চার হতে হয়, তা অনেক সময় যথাযথভাবে করতে পারছেন না। বিরোধী দলের সদস্যদের আরও শাণিত ও পরিপক্ক করতে প্রধানমন্ত্রী যদি কর্মশালা বা তাদের সান্নিধ্য দেওয়ার উদ্যোগ নেন, তবে তা জাতির বৃহত্তর স্বার্থে কাজ করবে।’
জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার প্রশংসা
রবিউল বলেন, ‘জিয়াউর রহমান সশস্ত্র সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছেন এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন প্রতিষ্ঠিত করেছেন।’ এছাড়া তিনি প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্ব এবং সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনে তার অবদানের কথা তুলে ধরেন।
রাজনৈতিক দল ও নির্বাচন প্রসঙ্গ
মন্ত্রী বলেন, ‘১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক দল, যাদের জনগণ কখনো ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসায়নি, তাদের যন্ত্রণা থাকতে পারে। নির্বাচনের আগে যাদের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাইতে হয়, তারা রাজনৈতিকভাবে ব্যর্থ। জনগণ বিভ্রান্ত হয়নি বলেই ২৬-এর নির্বাচনে বিএনপিকে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘৭১ শতাংশ মানুষ জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে রায় দিয়েছে। এর মধ্যে ৫১ শতাংশ মানুষ চেয়েছে বিএনপি যেভাবে সনদটি বাস্তবায়ন করতে চায়, সেভাবে হোক। বাকি ২০ শতাংশের চেয়ে ৫১ শতাংশের জনসমর্থনই অধিক গ্রহণযোগ্য। আমি বলব, রাজনীতি শিখুন, রাজনীতি করুন। মানুষকে বিভ্রান্ত করে লাভ নেই।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাবে এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সেতুমন্ত্রী। ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন চলাকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।



