নোয়াখালীর হাতিয়ায় বিয়ের প্রলোভনে নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, মামলা
হাতিয়ায় বিয়ের প্রলোভনে নারী ধর্ষণ, তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা

নোয়াখালীর হাতিয়ায় বিয়ের প্রলোভনে নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ

নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলায় একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে, যেখানে বিয়ের কথা বলে ডেকে নিয়ে এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাটি মঙ্গলবার রাতে উপজেলার নলচিরা ইউনিয়নে সংঘটিত হয়েছে বলে জানা গেছে।

মামলা দায়ের ও পুলিশের তদন্ত

বুধবার (১১ মার্চ) বিকালে প্রথমে হাতিয়া থানায় মৌখিক অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী নারী। পরে রাতে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে তিন জনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

হাতিয়া থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নির্যাতনের শিকার ওই নারী তিন সন্তানের জননী। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এর আগে তার তিনটি বিয়ে হয়েছিল। প্রথম সংসারে তিন সন্তান রয়েছে, কিন্তু পরের দুটি বিয়ে টেকেনি। সর্বশেষ নলচিরা ইউনিয়নের এক যুবকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়, যার সূত্র ধরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওই ব্যক্তি বিয়ে করার কথা বলে উপজেলার আফাজিয়া বাজার থেকে মোটরসাইকেলযোগে নলচিরা এলাকায় নিয়ে যায়।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

সেখানে নেওয়ার পর নারীর পরিচিত ব্যক্তিসহ তিন জন তাকে ধর্ষণ করে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে একজনের নাম-পরিচয় তিনি পুলিশকে দিয়েছেন, কিন্তু অন্য দুজনের নাম-পরিচয় জানাতে পারেননি। এই ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে এবং ন্যায়বিচারের দাবি উঠছে।

ওসি কবির হোসেন বলেন, 'ওই নারীর প্রাথমিক অভিযোগ পাওয়ার পর আজ বিকালে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে অভিযোগ তদন্ত করছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে এরই মধ্যে অভিযান শুরু হয়েছে।'

চিকিৎসা সহায়তা ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

নির্যাতনের শিকার নারীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য আগামীকাল বৃহস্পতিবার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে বলে জানানো হয়েছে। এই পদক্ষেপটি তার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এই ঘটনা নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশ বাহিনী দ্রুত তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়।