হাতিয়া থেকে ঢাকার লঞ্চে ছাত্রী ধর্ষণ: ছাত্র ইউনিয়নের বিক্ষোভে শাস্তির দাবি
নোয়াখালীর হাতিয়া থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা একটি লঞ্চে এক কলেজ ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের একটি অংশের কেন্দ্রীয় কমিটির বিক্ষোভ সমাবেশে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
বিক্ষোভ সমাবেশের বিবরণ
বুধবার সন্ধ্যা প্রায় ৮টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের রাজু ভাস্কর্যের নিচে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবিবার হাতিয়া থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা একটি লঞ্চের কেবিনে এক কলেজ ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হন। পুলিশ পরবর্তীতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে।
ধর্ষণ ঘটনার বিস্তারিত
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর বাবা তাকে হাতিয়ায় লঞ্চে তুলে দেন, যারপর ঢাকার উদ্দেশ্যে লঞ্চটি যাত্রা শুরু করে। যাত্রাপথে লঞ্চের একটি কেবিনের ভিতরেই এই নৃশংস ঘটনাটি সংঘটিত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত দুই সন্দেহভাজন হলেন মো. সাকিব উদ্দিন (২৬) এবং মো. নুরুজ্জামান মিঠু (৩২)। তাদের সোমবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বিতর্ক
গ্রেপ্তারকৃতদের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কর্মী হিসেবে অভিযোগ আনা হলেও, এখন পর্যন্ত কোনো সংবাদ মাধ্যম তাদের আনুষ্ঠানিক সংগঠনগত সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করতে পারেনি। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের (একটি অংশ) সাধারণ সম্পাদক শিমুল কুম্ভকার ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, অভিযুক্তরা আনুষ্ঠানিক পদে না থাকলেও তারা হান্নান মাসুদের অনুসারী।
তিনি বলেন, "আমরা স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকেও শুনেছি যে তারা হান্নান মাসুদের সঙ্গে যুক্ত।" সমাবেশে বক্তব্য রাখার সময় শিমুল কুম্ভকার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বেশ কিছু গ্রুপের দিকেও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন, যেখানে নানা বয়সের মেয়ে ও নারী, এমনকি শিশুদের ছবি শেয়ার করে অশ্লীল মন্তব্য ও মৌখিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সামাজিক মাধ্যম গ্রুপ নিয়ে উদ্বেগ
তিনি বলেন, "এ ধরনের গ্রুপ দ্রুত বাড়ছে এবং সেগুলোর ভিতরে এক ধরনের সংগঠিত বিকৃতি চর্চা করা হচ্ছে।" সমাবেশে নারীদের হয়রানি ও ঘৃণামূলক মন্তব্যের লক্ষ্যবস্তু বানানো এমন গ্রুপ পরিচালনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা ও আইনি জবাবদিহিতা দাবি করা হয়। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয়, মহানগর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির নেতা-কর্মীরাও এই প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।
দাবিসমূহ
- ধর্ষণ মামলায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা
- সামাজিক মাধ্যমে নারীদের হয়রানিমূলক গ্রুপ বন্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ
- এ ধরনের গ্রুপ পরিচালনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা
- নারী নির্যাতন বিরোধী কার্যকর আইন ও প্রয়োগ নিশ্চিত করা
এই ঘটনায় সমাজের বিভিন্ন স্তরে উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে, এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে আন্দোলন আরও জোরদার হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
