তথ্য অধিকার কমিশন গঠনের জরুরি আহ্বান টিআইবির
অনতিবিলম্বে তথ্য অধিকার কমিশন গঠন করার জরুরি আহ্বান জানিয়েছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। রবিবার (৮ মার্চ) আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করেন।
নারী অধিকার ও তথ্য অধিকারের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক
ড. ইফতেখারুজ্জামান তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, নারী অধিকার ও তথ্য অধিকার আন্দোলন একই সূত্রে গাঁথা এবং এটিকে আলাদা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, "গোপনীয়তার সংস্কৃতি থেকে উদারতার সংস্কৃতিতে যাওয়া সহজ কাজ নয়। তথ্য অধিকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমরা খুব বেশি অগ্রসর হতে পারিনি।" গত ১৬ থেকে ১৭ বছরে এই অধিকারকে স্বাভাবিকতায় পরিণত করার চেষ্টা করা হলেও এখনও ঘাটতি রয়ে গেছে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এটি ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তথ্য কমিশন গঠনে সরকারের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, মানবাধিকার কমিশনের মতো তথ্য কমিশনও এখন পর্যন্ত গঠন হয়নি। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকাও সমালোচনা করে বলেন, "অন্তর্বর্তী সরকারও তেমন কোনো সুফল বয়ে আনতে পারেনি। হয়তো তাদেরও কিছু গোপন করার বিষয় ছিল। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গোপন করা হয়েছে।"
কমিশনারদের পদমর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির দাবি
তিনি অনতিবিলম্বে তথ্য অধিকার কমিশন গঠনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, কমিশনারদের পদমর্যাদা আইনের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে গঠন করে দেয়া প্রয়োজন। এছাড়াও তাদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে যাতে তারা স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
বিএনপির ইশতেহার ও নতুন সরকারের প্রতি আহ্বান
ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও উল্লেখ করেন যে, বিএনপির ইশতেহারে অন্তত ৬টি ধারায় তথ্যের অধিকারের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে। তাই তিনি নতুন সরকারের কাছে এই ইশতেহার সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "আমরাও সেটি পর্যবেক্ষণ করবো এবং সরকারের পদক্ষেপগুলো নিবিড়ভাবে অনুসরণ করবো।"
এই আহ্বানের মাধ্যমে টিআইবি বাংলাদেশে তথ্য অধিকারের প্রসার ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধির জন্য একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গঠনের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। ড. ইফতেখারুজ্জামানের এই বক্তব্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে তথ্য প্রবাহের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবিকে আরও জোরদার করেছে।
