সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের জরুরি আহ্বান সম্পাদক পরিষদের
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলাগুলো দ্রুত প্রত্যাহারের জরুরি আহ্বান জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর ও সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে নতুন সরকারের প্রতি বিষয়টিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
মামলার কারণে সাংবাদিকদের পেশাগত সংকট
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরবর্তী সময় থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বহু সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা হত্যা মামলাসহ অসংখ্য হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছে। এসব মামলার কারণে এখনো অনেক সাংবাদিক কারাবন্দী রয়েছেন এবং অনেকে নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
এতে সাংবাদিকদের স্বাভাবিক পেশাগত কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীন পরিবেশ ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে সম্পাদক পরিষদ সতর্ক করেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে পূর্ববর্তী অনুরোধ
সম্পাদক পরিষদের পক্ষ থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে একাধিকবার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হওয়া মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাগুলো প্রত্যাহার এবং হয়রানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছিল।
বিবৃতিতে বলা হয়, মামলাগুলো খতিয়ে দেখে মিথ্যা ও হয়রানিমূলকগুলো প্রত্যাহারে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি।
ন্যায়বিচার ও আইনি প্রক্রিয়ার গুরুত্ব
কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ও প্রমাণসাপেক্ষ অভিযোগ থাকলে তা অবশ্যই প্রচলিত আইন ও স্বচ্ছ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার কথাও বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে সম্পাদক পরিষদ।
পরিষদ মনে করে, ন্যায়বিচারের স্বার্থেই অভিযোগের যথাযথ অনুসন্ধান ও আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন; কিন্তু হয়রানিমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
নতুন সরকারের প্রতি আহ্বান
বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের প্রতি বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মৌলিক অঙ্গীকার—এ প্রত্যাশাই আমরা পুনর্ব্যক্ত করছি।’
সম্পাদক পরিষদ আশা প্রকাশ করেছে যে, নতুন সরকার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চলমান মিথ্যা মামলাগুলো দ্রুত প্রত্যাহার করে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
