শাপলা চত্বরের গুলির ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন মাওলানা মনসুর, খোঁজ নেই কারও
শাপলা চত্বরের গুলির ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন মাওলানা মনসুর

আজও শাপলা চত্বরের গুলির ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন মাওলানা মনসুর আহমদ আসজাদ। ১২ বছর আগে ২০১৩ সালের ৫ মে রাতে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। শরীরে এখনো গুলির অংশ রয়ে গেছে, যা প্রতিনিয়ত যন্ত্রণা দেয়।

এক যুগের যন্ত্রণা

মাওলানা মনসুর তখন সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিকন্দরপুর মাদ্রাসার শিক্ষক। আল্লামা শাহ আহমদ শফির ডাকে সাড়া দিয়ে ঢাকায় এসেছিলেন। রাত দুইটার দিকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে গুলিবর্ষণ শুরু হয়। তিনি মাটিতে বসে পড়লে পেছন থেকে প্রশাসনের সদস্যরা তার মেরুদণ্ডে লাথি মারে এবং পায়ে গুলি করে। রক্তাক্ত অবস্থায় যাত্রাবাড়ীর একটি মাদ্রাসায় আশ্রয় নেন, পরে সিলেটে ফিরে চিকিৎসা শুরু হয়।

তিনটি অস্ত্রোপচার

শরীর থেকে গুলি বের করতে তিনবার অস্ত্রোপচার হয়েছে। প্রথমে স্থানীয় ক্লিনিকে, পরে সিলেটের আরোগ্য মেডিকেলে ডা. রাশেদুন্নবী খানের অধীনে। মেরুদণ্ডের জটিল আঘাতের জন্যও অস্ত্রোপচার হয়। গত ১ মে সিলেটের একটি ট্রমা সেন্টারে তৃতীয় অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। চিকিৎসকরা জানান, এখনো শরীরে গুলির অংশ রয়ে গেছে, যা স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কঠিন করে তুলেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সরকারি সহায়তার অভাব

মাওলানা মনসুর সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর এলাকার ছিলিমপুর গ্রামের মরহুম মাওলানা নিজাম উদ্দিনের সন্তান। সহপাঠী ও স্বজনদের অভিযোগ, শাপলা চত্বরের ঘটনায় হাজারো মানুষের নাম তালিকায় থাকলেও তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি। তিনি কোনো রাষ্ট্রীয় বা সাংগঠনিক সহায়তা পাননি।

সংকটাপন্ন অবস্থা

সিলেটের ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসাধীন এই আলেমের অবস্থা সংকটাপন্ন। সহকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশের জন্য যারা রক্ত দিয়েছেন, ১২ বছর পরও তাদের বিনা চিকিৎসায় ধুঁকতে হচ্ছে না। তারা দ্রুত সরকারিভাবে আহতদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে উন্নত চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনের আবেদন জানিয়েছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এক যুগ আগের সেই ক্ষত যেন মাওলানা আসজাদের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত বয়ে বেড়াতে না হয়—এটাই পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রত্যাশা।