এমবাপ্পেকে ঘিরে রিয়াল মাদ্রিদে অশান্তি, ড্রেসিংরুমে গৃহযুদ্ধ
এমবাপ্পেকে ঘিরে রিয়াল মাদ্রিদে অশান্তি, ড্রেসিংরুমে গৃহযুদ্ধ

রিয়াল মাদ্রিদের আকাশে কি তবে অশান্তির কালো মেঘ জমেছে? আর সেই অশান্তির কেন্দ্রে যার নাম, তিনি কিলিয়ান এমবাপ্পে। ফরাসি এই তারকাকে ঘিরে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর অন্দরমহলে এখন রীতিমতো গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছে।

অনুশীলনে মেজাজ হারানো

ঘটনা রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে ম্যাচের আগের এক অনুশীলনে। দ্য অ্যাথলেটিক-এর খবর অনুযায়ী, অনুশীলনের এক পর্যায়ে অফসাইড ধরায় কোচিং স্টাফের এক সদস্যের ওপর মেজাজ হারান এমবাপ্পে। শুধু তর্কাতর্কিই নয়, তিনি বেশ অপমানজনক শব্দও ব্যবহার করেছেন বলে জানা গেছে। অবাক করার বিষয় হলো, এমন আচরণের পরও ক্লাব থেকে তাঁকে কোনো শাস্তির মুখে পড়তে হয়নি।

ইতালি সফর নিয়ে বিতর্ক

এমবাপ্পের এই মেজাজি আচরণ রিয়ালের ড্রেসিংরুমে তপ্ত হাওয়া বইয়ে দিয়েছে। এর মধ্যে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে এসেছে তার ইতালি সফর। হ্যামস্ট্রিং চোট থেকে সেরে ওঠার জন্য মাদ্রিদে থাকার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু সামনেই যখন ‘এল ক্লাসিকো’র মতো মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ, তখন এমবাপ্পে বেছে নিলেন ইতালিতে ছুটি কাটানোকে। ফরাসি সংবাদমাধ্যম লেকিপ-এর দাবি, এমবাপ্পের এমন ‘উদাসীনতা’ আর ‘আত্মকেন্দ্রিক’ স্বভাবে ক্লাবের বাকি ফুটবলাররা যারপরনাই বিরক্ত। ড্রেসিংরুমে তিনি এখন অনেকটাই কোণঠাসা।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিসংখ্যানের চিত্র

পরিসংখ্যানও কিন্তু এমবাপ্পের হয়ে কথা বলছে না। গত মার্চে তিনি যখন চোটের কারণে মাঠের বাইরে ছিলেন, রিয়াল মাদ্রিদ তখন উড়ছিল। টানা পাঁচ ম্যাচে জয় পেয়েছিল তারা, যার মধ্যে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের দুটি জয়ও ছিল। অথচ তিনি ফিরতেই চিত্রটা বদলে গেল। পরের ছয় ম্যাচের পাঁচটিতেই জয়ের দেখা পায়নি আলভারো আরবেলোয়ার দল। ২০২৪-২৫ মৌসুমে তিনি আসার পর থেকে এখন পর্যন্ত বড় কোনো ট্রফি জেতেনি ‘লস ব্লাঙ্কো’রা।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভিনিসিয়ুসের সঙ্গে সম্পর্ক

এদিকে ভিনিসিয়ুসের সঙ্গে এমবাপ্পের সম্পর্ক নিয়েও শোনা যাচ্ছে নানা গুঞ্জন। মাঠের রসায়ন তো আগে থেকেই জমছিল না, এবার ফাটল ধরেছে ব্যক্তিগত সম্পর্কেও। স্প্যানিশ পত্রিকা মার্কার প্রতিবেদন বলছে, পুরো ড্রেসিংরুম এখন ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পক্ষে। ২৫ বছর বয়সী এই ব্রাজিলিয়ান এরই মধ্যে রিয়ালকে দুটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতিয়েছেন। গত সপ্তাহে যখন এমবাপ্পে ইতালিতে ফুরফুরে মেজাজে, ভিনিসিয়ুস তখন এসপানিওলের বিপক্ষে জয় শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখছেন, ‘এই ক্লাবের জন্য আমি মৃত্যুপণ লড়তে রাজি।’

কোচের মনোভাব

কোচ আরবেলোয়ার সুরও অনেকটা একই। তিনি আকার-ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিয়েছেন, এমবাপ্পের বর্তমান আচরণ রিয়াল মাদ্রিদের ঐতিহ্যের সঙ্গে মানানসই নয়।

এমবাপ্পের প্রতিনিধিদের বক্তব্য

এত সব সমালোচনার মধ্যে মুখ খুলেছেন এমবাপ্পের প্রতিনিধিরা। বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তাঁরা জানিয়েছেন, ‘এমবাপ্পের প্রতিশ্রুতি নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। ক্লাবের নিয়ম মেনেই সে তার চোট কাটিয়ে ওঠার কাজ করছে। যা বলা হচ্ছে, তার অনেকটাই অতিরঞ্জিত।’

তবে সাফাই যাই হোক, সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর গ্যালারি থেকে ড্রেসিংরুম—সবখানেই এখন প্রশ্ন একটাই। এমবাপ্পে কি পারবেন নিজেকে বদলে দলের অংশ হতে?