তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে আগামী ৭ মে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে আসা বিজয়। ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই মঙ্গলবার এ খবর জানিয়েছে।
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি
খবরে বলা হয়েছে, চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু ইনডোর স্টেডিয়ামে বিজয়ের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। আগামীকাল ৬ মে বিজয় রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। কাকতালীয়ভাবে, ২০২১ সালের এই একই দিনে (৭ মে) এম কে স্টালিন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।
স্টালিনের পদত্যাগ ও অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব
এর আগে নির্বাচনি ফলাফল প্রকাশের পর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিন ও তার মন্ত্রিসভার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল। তবে নতুন সরকার দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত স্টালিনকে অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব পালন চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
টিভিকের ঐতিহাসিক জয়
নিজের দল টিভিকে নিয়ে তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দিয়েছেন বিজয়। ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় বিজয়ের দল একক বৃহত্তম শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ঐতিহাসিক এক অভিষেকে টিভিকে ১০৮টি আসনে জয়লাভ করেছে, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮টি আসন থেকে মাত্র ১০টি কম।
অন্যান্য দলের অবস্থান
অন্যদিকে, এম কে স্টালিনের নেতৃত্বাধীন ডিএমকে জোট ৭৩টি এবং এআইএডিএমকে নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট ৫৩টি আসন পেয়েছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের দ্রাবিড় রাজনীতির আধিপত্য ভেঙে ভোটাররা এক নতুন রাজনৈতিক বিকল্পের পক্ষে রায় দিয়েছেন।
জোট গঠনের সম্ভাবনা
সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে বিজয়ের দল এখন কংগ্রেস, পিএমকে, বাম দল (সিপিআই ও সিপিআই-এম) এবং ভিসিকে-র মতো ছোট দলগুলোর সমর্থন নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশের মাত্র দুই বছরের মাথায় বিজয়ের এই ক্ষমতায় আরোহণ তামিলনাড়ুর ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা।
সূত্র: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া



