নারী-শিশু নির্যাতন মামলায় সাজার হার মাত্র ৩ শতাংশ
নারী-শিশু নির্যাতন মামলায় সাজার হার ৩%

ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচির উদ্যোগে আয়োজিত এক পরামর্শ সভায় গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলায় সাজার হার মাত্র ৩ শতাংশ, যেখানে প্রায় ৭০ শতাংশ মামলায় আসামিরা খালাস পাচ্ছেন। বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা, দুর্বল প্রমাণ, সাক্ষীর অনুপস্থিতি ও কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

গবেষণার মূল তথ্য

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত গবেষণায় দেশের ৩২টি জেলার ৪৬টি ট্রাইব্যুনালে জানুয়ারি থেকে জুন ২০২৫ পর্যন্ত নিষ্পত্তি হওয়া ৪ হাজার ৪০টি মামলা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা যায়, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ আইন, ২০০০ অনুযায়ী ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির বিধান থাকলেও বাস্তবে একটি মামলা শেষ হতে গড়ে ৩ বছর ৭ মাস সময় লাগছে। প্রতিটি মামলায় গড়ে ২২ বার শুনানির তারিখ পড়ছে।

বিচার বিলম্বের কারণ

গবেষণায় বিচার বিলম্বের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে অভিযোগকারী ও সাক্ষীর অনুপস্থিতি, ঘন ঘন সময় প্রার্থনা, তদন্তে বিলম্ব, দুর্বল প্রমাণব্যবস্থা এবং সাক্ষী সুরক্ষার অভাব। গবেষণায় বলা হয়, এসব সমস্যার সমাধান ছাড়া শুধু সময়সীমা কমিয়ে কার্যকর ফল পাওয়া যাবে না।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আইনমন্ত্রীর বক্তব্য

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের প্রধান তিনটি অঙ্গের মধ্যে বিচার বিভাগ সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত। জাতীয় বাজেটে বিচার বিভাগের বরাদ্দ তুলনামূলক কম, প্রায় ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা, যা দিয়ে বিচারকদের বেতন, প্রশাসনিক ব্যয় ও অবকাঠামো পরিচালনা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। তিনি বিচার বিভাগের বাজেট বাড়ানোর ওপর জোর দেন এবং পদোন্নতি ও কাঠামোগত ভারসাম্য নিয়েও চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বক্তব্য

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হোসেন। তিনি বলেন, কম সাজার হার দেখে অনেকেই এসব মামলাকে 'মিথ্যা' মনে করেন, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। নারীর ওপর সহিংসতার প্রায় ৭০ শতাংশ ঘটনাই সামাজিক কাঠামো, কলঙ্ক, ভয় ও মানসিকতার কারণে আদালত পর্যন্ত আসে না। তিনি আইনের বড় কোনো ঘাটতি নেই বলেও মন্তব্য করেন এবং বিচারকদের ইতিবাচক ও সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গি থাকলে নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলাগুলো আরও কার্যকর ও দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব বলে মত প্রকাশ করেন।

সভাপতির বক্তব্য

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ। স্বাগত বক্তব্য দেন ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা এবং জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি কর্মসূচির সহযোগী পরিচালক শাশ্বতী বিপ্লব। তিনি বলেন, বাংলাদেশে নারীর প্রতি সহিংসতা একটি বেদনাদায়ক বাস্তবতা এবং দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ নারী জীবনের কোনো না কোনো সময়ে সঙ্গীর দ্বারা সহিংসতার শিকার হন।