মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমনে গ্রেফতার: উদ্বেগ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের
মতপ্রকাশ দমনে গ্রেফতার: উদ্বেগ এইচআরডব্লিউর

বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশে অন্তত চারজনকে গ্রেফতারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সংস্থাটি বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে বলেছে, নতুন সরকারের এই কর্মকাণ্ড বিগত প্রশাসনের দমনমূলক অভ্যাসেরই একটি উদ্বেগজনক ধারাবাহিকতা।

প্রতিশ্রুতি রক্ষার আহ্বান

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকারের উচিত মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা। এছাড়া ভিন্নমত দমাতে বিদ্যমান আইনের অপব্যবহার বন্ধ করা এবং আইনের যেসব ধারা অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে, সেগুলো সংশোধন বা প্রতিস্থাপন করা প্রয়োজন।

গভীর উদ্বেগ

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশীয় অঞ্চলের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেন, ‘বাংলাদেশিরা জীবন বাজি রেখে স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের মর্যাদা দাবি করার পর, নতুন সরকারের প্রয়োজন সংস্কারের জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা। এটি গভীরভাবে উদ্বেগজনক যে দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক মাসের মধ্যেই বিএনপি সরকার অপছন্দের কনটেন্ট পোস্ট করার অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের গ্রেফতার করছে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আইন সংস্কারের ত্রুটি

মানবাধিকার সংস্থাটি বলছে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর বছরের পর বছর নির্যাতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশের মাধ্যমে আইন সংস্কারের চেষ্টা করেছিল। এতে কিছু উন্নতি থাকলেও, অনলাইনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা তার প্রতিনিধি ছাড়া কেউ অভিযোগ করতে পারবে না, এমন বিধান রয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে, কিছু ক্ষেত্রে এই বিধান লঙ্ঘিত হয়েছে। এটি নতুন সরকারের অধীনে একটি আশঙ্কাজনক নজির সৃষ্টি করেছে যে, ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকদের নির্দেশে পুলিশ এখন আবারও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার চেষ্টা করছে।

অধ্যাদেশে অপব্যবহারের সুযোগ

সংস্থাটি জানায়, সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশে অপরাধের অস্পষ্ট সংজ্ঞায়ন এবং তদন্ত ও অনলাইন কনটেন্ট ব্লক করার ক্ষমতার ওপর দুর্বল বিচারিক নজরদারিসহ এমন ধারা রয়ে গেছে যা অপব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, যথাযথ পরামর্শের ভিত্তিতে সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনকে মানবাধিকার-বান্ধব আইন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা উচিত। সেই সঙ্গে সরকারের উচিত পুলিশ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া, যার মধ্যে একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠন অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে, যাতে কর্মকর্তারা তৎকালীন সরকারের অনুগত না হয়ে ওঠেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বার্তা

মীনাক্ষী গাঙ্গুলী আরও বলেন, ‘এই গ্রেফতারগুলো প্রমাণ করে যে নিরাপত্তা খাতের অপব্যবহার শিকড় গেড়েছে এবং পুলিশ কেবল নতুন নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য পরিবর্তন করেছে। প্রধানমন্ত্রীর উচিত তার সমর্থক এবং পুলিশকে জোরালো বার্তা দেওয়া যে, সবারই নিজ নিজ মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় তাকে দ্রুত প্রতিষ্ঠান ও আইন সংস্কার করতে হবে।’