রাঙামাটিতে মাদকবিরোধী মানববন্ধন ও শপথ অনুষ্ঠিত
রাঙামাটিতে মাদকবিরোধী মানববন্ধন ও শপথ

আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে রাঙামাটিতে মানববন্ধন ও বিশেষ শপথ গ্রহণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৬ জুন বিকেলে জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সামনে রাঙামাটি বন্ধুসভার সহযোগিতায় এই কর্মসূচির আয়োজন করে প্রথম আলো ট্রাস্ট। তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করতে এবং মাদক, ধূমপান ও ই-সিগারেটমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এই আয়োজন।

মানববন্ধনে বক্তারা

রাঙামাটি বন্ধুসভার স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া সম্পাদক মোস্তফা কামালের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন প্রথম আলোর জেলা প্রতিনিধি মিকেল চাকমা। স্বাগত বক্তব্য দেন অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব কৃষ্ণ চন্দ্র চাকমা, রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি আনোয়ার আল হক, শিক্ষাবিদ ও সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য গৈরিকা চাকমা, বিএম কলেজের সহযোগী অধ্যাপক আনন্দ জ্যোতি চাকমা, রোভার স্কাউট কমিশনার নুরুল আবছার, বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক বাবুল মারমা প্রমুখ।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা খাদ্য কর্মকর্তা ও সূর্যোদয় সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক নয়ন জ্যোতি চাকমা, অবসরপ্রাপ্ত ডা. প্রগতি চাকমা, বন্ধুসভার সভাপতি আপন চাকমাসহ শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, বন্ধুসভার সদস্য, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মাদক নির্মূলে আইন সংস্কারের দাবি

রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি আনোয়ার আল হক বলেন, প্রচলিত আইন দিয়ে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। মাদক মামলার আসামিরা সহজে জামিন পেয়ে আবারও একই অপরাধে জড়াচ্ছেন। তাই আইন সংশোধন করে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা এবং মাদক মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে।

আনোয়ার আল হক আরও বলেন, দুই-চার হাজার টাকা লাভের আশায় কিশোর-তরুণেরা সাপ্লাই চেইনে জড়িয়ে পড়ছেন। চোলাই মদ-গাঁজার পাশাপাশি এখন দেশে ২৪ ধরনের ভয়াবহ মাদক ঢুকছে। সাপ্লাই চেইন বন্ধ না করলে সমাজ থেকে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দেন তিনি। বর্তমানে দেশে ৮০ হাজার মাদক মামলা বিচারাধীন—দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আলাদা ট্রাইব্যুনাল প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মাদক ব্যবসায় রাঘববোয়ালদের ধরতে গোয়েন্দা নজরদারি জরুরি

রাঙামাটিতে চোলাই মদ, গাঁজা ও অন্যান্য মাদক বিক্রি হচ্ছে উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, ধরা পড়ছে কেবল চুনোপুঁটি। রাঘববোয়ালদের ধরতে গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য বিনিময় বাড়াতে হবে।

প্রথম আলোর রাঙামাটি প্রতিনিধি মিকেল চাকমা বলেন, মাদক সেবনের ফলে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—সব জায়গায় সুদূরপ্রসারী ক্ষতি হয়। ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ধ্বংস হয়, পরিবারে অশান্তি নামে, সমাজে অপরাধ বাড়ে। ২০০৩ সাল থেকে প্রথম আলো মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছে।