হবিগঞ্জে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে এক কিশোরীর (১৬) মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকালে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা আধুনিক সদর হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ, ধর্ষণের পর নির্যাতনের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
ভুক্তভোগী কিশোরী নানার বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করত। সম্প্রতি সে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তার ব্যবহারিক পরীক্ষা এখনও বাকি ছিল। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বানিয়াচং উপজেলার সুনারু গ্রামের বাসিন্দা ও পেশায় আইনজীবী সহকারী জীবন দাসের সঙ্গে মেয়েটির প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিছুদিন আগে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাকে হবিগঞ্জ শহরের ইসকন মন্দিরে নিয়ে যান জীবন। তবে মেয়েটি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মন্দির কর্তৃপক্ষ বিয়ে সম্পন্ন না করে তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়।
পরিবারের অভিযোগ
পরিবারের অভিযোগ, রবিবার সকালে জীবন দাস আবারও মেয়েটিকে বাড়ি থেকে নিয়ে যান। এরপর রাত ৮টার দিকে হবিগঞ্জ শহরের উপদেনগর বাণিজ্যিক এলাকার সড়কের পাশে অচেতন ও রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে স্বজনরা উদ্ধার করে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার ভোরে মেয়েটির মৃত্যু হয়।
মৃতের স্বজনদের দাবি, তাকে ধর্ষণের পর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। উদ্ধারের সময় তার মুখে আঘাতের চিহ্ন ছিল বলেও তারা অভিযোগ করেন।
হাসপাতালের বক্তব্য
হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আমিনুল ইসলাম সরকার জানান, ধর্ষণের অভিযোগে স্বজনরা রাতে ওই কিশোরীকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সোমবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পুলিশের অবস্থান
এ বিষয়ে বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাজমুল হক বলেন, ‘ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ওই কিশোরীর সঙ্গে যে ছেলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল তাকে আটকের চেষ্টা করছি।’
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।



