চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় সাড়ে তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষক মনির হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। শুক্রবার তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিকের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন তিনি।
ঘটনার বিবরণ
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। এর আগে ধর্ষক মনির হোসেনকে নিজেদের জিম্মায় পেতে স্থানীয় কিশোর গ্যাং, মাদক ব্যবসায়ীসহ একটি পক্ষ পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়ায়। এতে ৩০-৩৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশের ওপর হামলা
পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে আরও একটি মামলা দায়ের করা হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মো. কবির ভূঁইয়া। তিনি বলেন, 'ওই ভবনে বাইরে থেকে পাথর নিক্ষেপ করে পুলিশের ওপর হামলা করা হয়। সেজন্য সীমিত আকারে টিয়ারশেল ব্যবহার করা হয়।'
সংঘর্ষের ঘটনা
পুলিশ সূত্র জানায়, ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বাকলিয়া থানাধীন চেয়ারম্যান ঘাটা আবু জাফর রোড এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত যুবককে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবিতে সড়কে অবস্থান নেয়। পুলিশের গাড়ি আটকে দেয় এবং পরে একটি পুলিশ ভ্যানে আগুন দেয়। টানা পাঁচ ঘণ্টা একটি ভবনে অবরুদ্ধ রাখার পর রাত ১০টার দিকে এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে কৌশলে বাকলিয়া থানায় নেওয়া হয়।
সাংবাদিকদের ওপর হামলা
ঘটনার সময় লাইভ করতে গিয়ে পুলিশের ছোড়া সাউন্ড গ্রেনেডের আঘাতে চট্টগ্রাম প্রতিদিনের স্টাফ রিপোর্টার মামুন আবদুল্লাহ ও নোবেল হাসান আহত হন। এ সময় স্থানীয়দের তোপের মুখেও পড়েন কয়েকজন সাংবাদিক। আজকের পত্রিকার মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার আব্দুল কাইয়ুমকে একটি কমিউনিটি সেন্টারের ছাদে বেশ কিছুক্ষণ অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে তিনি ফেসবুকে আটকে থাকার কথা জানালে তাকে উদ্ধার করা হয়।
শিশু উদ্ধার
জানা গেছে, চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় সাড়ে তিন বছরের এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বিকালে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে বলে দাবি করে পরিবারের লোকজন। শিশুটি তার নানির বাসায় এসেছিল। সেই বাসার কাছে ডেকোরেশন ব্যবসার একটি গুদাম রয়েছে। বিকালে কৌশলে শিশুটিকে সেখানে নিয়ে যায় ভাই ভাই ডেকোরেটরের কর্মচারী মনির হোসেন। এরপর শিশুটির কান্না শুনে তার নানি গিয়ে উদ্ধার করে এবং মনিরকে জুতা দিয়ে মারধর করেন। মনির চলে যাওয়ার পথে শিশুটির নানাসহ স্থানীয়রা গিয়ে তাকে একটি ভবনে আটকে রাখেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে। ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকাল ৫টার দিকে বিক্ষুব্ধ লোকজন রাস্তায় নেমে আসেন।
পুলিশের বক্তব্য
উপকমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মো. কবির ভূঁইয়া বলেন, 'ওই এলাকায় বিভিন্ন সময়ে মাদক ও ছিনতাইয়ের অভিযানে গিয়ে শতাধিক আসামি গ্রেফতার করা হয়েছিল। তারা জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় এ কাজে যুক্ত হয়েছে। ধর্ষণের বিষয়টি জানতে পেরে তারা ফেসবুকে মেসেজ দিয়ে লোকজন জড়ো করে ফেলে। তাদের সঙ্গে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকারী এবং কিশোর গ্যাংয়ের লিডার যারা আছে তারাও যুক্ত হয়েছে।' তিনি আরও বলেন, 'শিশুটিকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। তবে ধর্ষণের বিষয়টি মেডিকেল প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। এছাড়া পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন।'



