শিশু হত্যা-ধর্ষণে তীব্র নিন্দা এইচআরএসএসের
শিশু হত্যা-ধর্ষণে তীব্র নিন্দা এইচআরএসএসের

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশু হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের ধারাবাহিক ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। একই সঙ্গে এসব নৃশংস ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। বৃহস্পতিবার সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলামের সই করা বিবৃতিতে এই উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানানো হয়।

পল্লবী ও মুন্সীগঞ্জের ঘটনা

বিবৃতিতে বলা হয়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। তার মরদেহের একটি অংশ পাওয়া যায় প্রতিবেশীর ঘরের খাটের নিচে এবং মাথা উদ্ধার করা হয় বাথরুম থেকে। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পালাতে সহায়তা করেছেন তার স্ত্রীও। এছাড়া গত ১৬ মে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার চান্দের চর গ্রামের মদিনাপাড়ায় আছিয়া আক্তার নামে ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। নিহত শিশুর গলায় শ্বাসরোধের চিহ্ন এবং ধর্ষণের প্রাথমিক আলামত পাওয়ার পর পুলিশ অভিযুক্ত রাজা মিয়াকে আটক করে।

ঠাকুরগাঁও ও সিলেটের ঘটনা

গত ১৪ মে ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলায় ধর্ষণের পর লামিয়া আক্তার নামে চার বছর বয়সী এক শিশুকে হত্যা করা হয়। নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর এলাকার একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এদিকে গত ৬ মে সিলেট সদর উপজেলার জালালাবাদ এলাকায় চার বছর বয়সী শিশু ফাহিমা আক্তারকে ধর্ষণের চেষ্টার পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে অভিযুক্ত জাকির হোসেন শিশুটির মরদেহ খাটের নিচে লুকিয়ে রেখে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাকে খোঁজার নাটক করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিসংখ্যান ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রতিনিয়ত দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশু হত্যা, ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। এইচআরএসএসের সংগৃহীত তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে অন্তত এক হাজার ৮৯০ জন শিশু ও কিশোরী নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ৪৮৩ জন নিহত এবং এক হাজার ৪০৭ জন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এছাড়া ৫৮০ জন শিশু ধর্ষণ এবং ৩১৮ জন যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। সংগঠনটি বলছে, শিশু হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের মতো সহিংসতা প্রতিরোধ করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও আইনগত দায়িত্ব। কিন্তু একের পর এক এমন ঘটনা প্রমাণ করছে, শিশু সুরক্ষায় বিদ্যমান ব্যবস্থা যথেষ্ট কার্যকর নয়। বিচারহীনতার সংস্কৃতি, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং দুর্বল আইন প্রয়োগের কারণে এ ধরনের অপরাধ বাড়ছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির চিত্র ফুটে উঠছে।

সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়

বিবৃতিতে বলা হয়, "নিষ্পাপ শিশুদের ওপর এ ধরনের পাশবিক সহিংসতা শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘন নয়, এটি আমাদের সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের বহিঃপ্রকাশ।" এইচআরএসএস অবিলম্বে শিশু হত্যা ও ধর্ষণের সব ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের যথাযথ প্রয়োগ, ভুক্তভোগী পরিবারকে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা, নিরাপত্তা, ক্ষতিপূরণ, চিকিৎসা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, "শিশুদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, সামাজিক প্রতিরোধ ও মানবিক মূল্যবোধের পুনর্জাগরণও জরুরি।" এই লক্ষ্যে শিশু সুরক্ষায় সব নাগরিক, সামাজিক সংগঠন ও গণমাধ্যমকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে এইচআরএসএস।